বুধবার ২৪ জুন, ২০২৬ | ১০ আষাঢ়, ১৪৩৩

Advertise with us
আপডেট
Advertise with us

সুস্থ হয়ে উঠছেন আগুনে দগ্ধ বড়লেখার গৃহবধূ আছমিনা

এ.জে লাভলু, বড়লেখা   |   সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯   |   প্রিন্ট   |   ৯৬১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

সুস্থ হয়ে উঠছেন আগুনে দগ্ধ বড়লেখার গৃহবধূ আছমিনা

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ গৃহবধূ আছমিনা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানা গেছে। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চতুর্থ তলায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঢাকার বার্ন ইউনিটের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানিয়েছেন বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক।

তিনি শুক্রবার সন্ধ্যায় আছমিনার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিতে ঢাকায় যান। সেখানে গিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মারিয়ার সঙ্গে কথা বলেন।

ওসি মো. ইয়াছিনুল হক শনিবার রাতে বলেন, আমি আছমিনাকে দেখে এসেছি। ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকের সাথে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন আছমিনা এখন আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থ আছেন। আছমিনার সাথেও কথা হয়েছে। তিনি কিছুটা সুস্থবোধ করছেন বলে জানিয়েছেন।
এর আগে গত সোমবার আছমিনার শারীরিক অবস্থা দেখে তাঁর উন্নত চিকিৎসার দায়িত্ব নেন বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়াছিনুল হক।

এরপরই স্থানীয় জনপ্রিতনিধিদের সহযোগিতায় গত বুধবার রাত ১০টায় ইয়াছিনুল হক আছমিনাকে এম্বুলেন্স করে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠান। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বড়লেখা থানার ওসির ফেসবুক পেজে আছমিনাকে এম্বুলেন্সযোগে ঢাকায় পাঠানোর একটি ছবি শেয়ার করা হয়। সেই ছবি দেখে অনেকে ওসির এমন মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। অনেকে বিষয়টিকে মানবতার অনন্যা দৃষ্টান্ত বলেও মন্তব্য করে ওসির প্রসংশা করছেন।

আছমিনার পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের জফরপুর গ্রামের হত দরিদ্র ছমির উদ্দিন ৩ বছর পূর্বে মূছেগুল গ্রামের আনু মিয়ার ছেলে সাহেদ আহমদের সাথে মেয়ে আছমিনা বেগমের বিয়ে দেন। তাদের ২ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর থেকে প্রায়ই স্বামীর মারধরের শিকার হতেন আছমিনা। সংসার ধরে রাখার চেষ্টায় মুখ বুঝে সব সহ্য করতেন। কিন্তু বন্ধ হয়নি নির্যাতন। ঘটনার কয়েকদিন আগে আছমিনার কানের স্বর্ণের অলংকার বিক্রি করার চেষ্টা করেন স্বামী সাহেদ।

বিষয়টি বুঝতে পেরে আছমিনা স্বর্ণগুলো বাবার বাড়িতে গিয়ে সেখানে রেখে আসেন। ঘটনার ভোররাতে আছমিনার কাছে স্বর্ণের অলংকার চান সাহেদ। তখন আছমিনা বাবার বাড়িতে রেখে আসার কথা জানায়। এতে সাহেদ ক্ষুব্ধ হয়ে ঘরে থাকা আছমিনার সব কাপড় চোপড় জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেয়। আছমিনা বাধা দিতে গেলে শারীরিকভাবে আঘাত করে আগুনের মধ্যে চেপে ধরে রাখে। এতে আছমিনা বেগমের শরীরের বেশিরভাগ অংশই ঝলসে যায়। এরপর মুমুর্ষ অবস্থায় আছমিনাকে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে পাষণ্ড স্বামী সাহেদ আহমদ পালিয়ে যায়। জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে খবর পেয়ে আছমিনার বাবা-মা ও বোন বড়লেখা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে মুমূর্ষ আছমিনাকে দেখতে পান।

এ সময় চিকিৎসকরা আছমিনাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ওইদিন মঙ্গলবার (৪ জুন) দুপুরে আছমিনাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৫ দিন চিকিৎসা দিয়ে গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আছমিনা বেগমকে ছাড়পত্র দিয়ে দেয়।

মুমূর্ষ অবস্থায় তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। প্রায় বেশিরভাগ অংশই পুড়ে যাওয়া শরীর নিয়ে বাবার বাড়িতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলেন তিনি। দরিদ্র পিতার পক্ষে আছমিনাকে উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছিল না। এই অবস্থায় কেউই পাশে দাঁড়ায়নি আছমিনার।

বর্বর এই ঘটনাটির খবর পেয়ে গত সোমবার আছমিনার বাড়িতে যায় পুলিশ। আছমিনার শারীরিক অবস্থা দেখে তাঁর পাশে দাঁড়ান বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়াছিনুল হক। এরপর তিনি তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 

ফলো করুন 24todaynews.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
প্রভাষক আফাজুর রহমান চৌধুরী
অফিস