বুধবার ২৪ জুন, ২০২৬ | ১০ আষাঢ়, ১৪৩৩

Advertise with us
আপডেট
Advertise with us

মাধবকুন্ড দেখতে গিয়ে সব খোয়ালেন তাঁরা!

এ.জে লাভলু, বড়লেখা   |   রবিবার, ০৯ জুন ২০১৯   |   প্রিন্ট   |   ১১৫০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

মাধবকুন্ড দেখতে গিয়ে সব খোয়ালেন তাঁরা!

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে এটি হচ্ছে অন্যতম। বিভিন্ন উৎসব ছাড়াও বছর জুড়ে এখানে পর্যটকের ভীড় লেগেই থাকে। প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ অবকাশ পেলেই ছুটে আসেন মাধবকুণ্ডে। কিন্তু এখানে বেড়াতে এসে প্রায়শই নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন পর্যটকরা।

পর্যটকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, খাবার হোটেলগুলোতে অতিরিক্ত দাম রাখা এবং গাড়ি পার্কিং করা নিয়ে তাদের সাথে হাতাহাতির অভিযোগও পুরনো। অবশ্য এসব বিষয় নিয়ে মাঝে-মধ্যে কেউ কেউ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগও করেন। কিন্তু কেউই কোনো প্রতিকার পাননা-এমন অভিযোগ আছে।

এবারের ঈদ উৎসবে মাধবকুন্ডে বেড়াতে এসে নিজেদের পরনের পোশাক, টাকা আর মুঠোফোন খুইয়েছেন তিন পর্যটক। তাদের ধারণা, পোশাক, টাকা আর মুঠোফোন চুরির সঙ্গে মাধবকুণ্ডের ক্যামেরাম্যানরা জড়িত রয়েছেন। যদিও নির্দিষ্ট কোনো ক্যামেরাম্যানের নাম তারা বলতে পারেননি।

ঘটনাটি গত শুক্রবার দুপুরে ঘটলেও ভুক্তভোগী পর্যটকরা রবিবার (৯ জুন) বিষয়টি এ প্রতিবেদককে মুঠোফোনে জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের একজন মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের বিবিএস তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও জেলা সদরের মাতারকপন এলাকার বাসিন্দা মুস্তাকিম আহমদ। তিনি জানান, ঈদের তৃতীয় দিন শুক্রবার দুপুরে মাধবকুণ্ড জলপ্রাতে আমি ও আমার ভাতিজা তারিকুর রহমান এবং বন্ধু হায়দার আলী বেড়াতে যাই। এখানে এসে আমরা তিনজন ঝর্ণার পাশে যাত্রী ছাউনীর কাছেই আমাদের পরনের পোশাক খোলে একটি ব্যাগের মধ্যে রাখি। এছাড়া ব্যাগে আমাদের একটি আইফোন ফোর এস, একটি স্যামসাং ডুওজ ও একটি নরমাল ফোন এবং একটি হাত ঘড়িসহ নগদ ১০ হাজার টাকা রাখা ছিল। পাশে ব্যাগ রেখে আমরা ছবি তুলছিলাম। শুধু আমার কাছে একটি মুঠোফোন ছিল। কিছুক্ষণ পর যে জায়গায় ব্যাগটি রেখেছিলাম সেখানে ব্যাগটি দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। আমার অনেক্ষণ খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি সেখানকার দায়িত্বরত পুলিশকে জানাই। তিনি প্রায় আড়াইঘন্টা আমাদের সঙ্গে ব্যাগ খুঁজতে সহযোগিতা করেন। পরে মাধবকুণ্ডে মন্দিরের পাশ থেকে আমাদের ব্যাগটি ছেড়া অবস্থায় পাই। যদিও ব্যাগটিতে কিছুই ছিল না। এমনকি আমাদের পোশাকও নয়। পরে সেখান থেকে আমরা অনেক কষ্ট করে বাড়িতে এসেছি।

তিনি বলেন, মাধবকুণ্ডের একজন ক্যামেরাম্যান আমাদের কাছে ছবি তোলার জন্য বার বার এসেছিল। আমরা ছবি তুলিনি। এই ক্যামেরাম্যনআমাদের টাকা, মোবাইল ও পোশাক চুরি করেছে বলে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে। আমরা বিষয়টি পুলিশকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি।

পুলিশ বলেছে তারা যদি এগুলো পায়, তবে তা আমাদের ফিরিয়ে দেবে। তিনি জানান, মাধবপুর থেকে আসা কয়েকজন পর্যটকও তাদের মোবাইল ফোন ও টাকা হারিয়েছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে যদি পর্যটকরা হয়রানির শিকার হয়। তাহলে মাধবকুণ্ডে পর্যটকরা আর আসতে চাইবেনা।

জানতে চাইলে মাধবকুণ্ড পর্যটন সহায়ক কমিটর সহসভাপতি হালিম আহমদ বলেন, মাধবকুণ্ডে বেড়াতে আসা তিন পর্যটকের পোশাক, টাকা আর মোবাইল ফোন খোয়া যাওয়ার বিষয়টি জেনেছি। ঘটনা শোনার পর আমি তাদের লিখিতভাবে পর্যটন পুলিশকে বিষয়টি জানাতে বলেছি। তারা পুলিশকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। কিন্তু তাদের চুরি হওয়া জিনিসগুলো খুঁজে পাননি।

তিনি বলেন, পর্যটকরা প্রায় আমাদের কাছে এরকম নানা বিষয় নিয়ে অভিযোগ করেন। এভাবে যদি চলতে থাকে, তাহলে পর্যটকরা মাধবকুণ্ডে আসবে না। ভবিষ্যতে যাতে এরকম ঘটনা না ঘটে সেজন্য সংশ্লিষ্টদের  আরো দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।

এ ব্যাপারে পর্যটন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম বলেন,  শুক্রবার তিন পর্যটক মাধবকুণ্ডে বেড়াতে এসে তাদের ব্যাগ পাচ্ছেন না বলে আমাকে জানান। তারা এখানকার ক্যামেরাম্যানদের সন্দেহ করছেন। তবে নির্দিষ্ট করে কারো নাম বলেননি। আমরা তাদের খোয়া যাওয়া ব্যাগ দীর্ঘক্ষণ খুঁজেছি। অনেকে পর্যটকের ব্যাগও চেক করে দেখেছি কেউ চুরি করেছে কিনা। কিন্তু পাইনি। পরে ব্যাগটি মন্দিরের পাশে ছেড়া অবস্থায় পেলেও এর ভেতরে কিছুই ছিল না।

তিনি বলেন, এগুলো না পেয়ে পর্যটকদের থানায় জিডি করতে বলেছি। তাদের নাম-পরিচয় রেখেছি। তবে কে বা কারা এগুলো নিয়েছে, তা আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।
তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে মাধবকুণ্ডে অনেক পর্যটকের সমাগম ঘটে। অনেকের অসেচতনতার কারণে এরকম ঘটনা ঘটে। এখানে আসার পর পর্যটকদের আমরা তাদের সতর্ক করি। পর্যটকদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিজেদের কাছে রাখতে বলি। কিন্তু অনেকে আমাদের কথা শোনেন না।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 

ফলো করুন 24todaynews.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
প্রভাষক আফাজুর রহমান চৌধুরী
অফিস