
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন ত্রিপুরা পল্লী ভাঙনের মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে পল্লীর কয়েকটি বসতঘর ভেঙে গেছে। দ্রুত গাইডওয়াল নির্মাণ না হলে চলতি বর্ষায় পুরো পল্লী বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, চলতি বর্ষা মৌসুমে দফায় দফায় ভারী বৃষ্টিতে সাতছড়ির পাহাড়ি ছড়াগুলোতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে উদ্যানসংলগ্ন ত্রিপুরা পল্লীর ২৪টি পরিবারের চলাচলের একমাত্র সড়কটি ভেঙে পড়েছে। গাইডওয়াল না থাকায় টিলা ধসে কয়েকটি ঘর ছড়ায় বিলীন হয়েছে। আগে থেকেই ভেঙে পড়া একমাত্র যোগাযোগ সেতুটি দুই বছর ধরে চলাচলের অযোগ্য থাকায় পল্লীর সাথে উপজেলা শহরে যাতায়াত কার্যত বিচ্ছিন্ন। স্থানীয়রা ছড়া পেরিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করছেন। তবে বৃষ্টির সময় সেটি আরো অসম্ভব হয়ে পড়ে।
পল্লীবাসীর ভাষ্য, প্রতিবছর বর্ষায় ভাঙনে তাদের বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এ বছর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ত্রিপুরা পল্লীর হেডম্যান চিত্ত দেববর্মা জানান, আমরা এখানে যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছি, আমাদের জন্ম এখানে মৃত্যুও এখানেই হবে। বারবার দাবি জানানো হলেও প্রশাসেনর পক্ষ থেকে সড়ক সংস্কার কিংবা ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে মনে হয় না ত্রিপুরা পল্লীতে আমরা আমাদের অস্তিত্ব ধরে থাকতে পারবো। ইতোমধ্যে পাঁচটি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, ত্রিপুরা পল্লীর ভাঙন রোধে বড় ধরনের আর্থিক বরাদ্দ প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দারা লিখিত আবেদন দিলে সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাসহ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর বিকল্প আবাসনের বিষয়েও উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
