
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

চাঁদপুরে লাভজনক ফসল হিসেবে আখের আবাদ দিন দিন বাড়ছে। চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আখের চাষ হয়েছে। কৃষকদের প্রত্যাশা, অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো বাজারমূল্য পেলে গত বছরের ক্ষতি কাটিয়ে লাভবান হবেন তারা। এদিকে উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক জাতের আখ চাষ এবং জৈব সার ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার আট উপজেলার মধ্যে চাঁদপুর সদর, ফরিদগঞ্জ, মতলব উত্তর ও হাইমচর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আখ উৎপাদিত হয়। চলতি মৌসুমে জেলায় ৬৭৭ হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে আবাদ হয়েছে ৬৮১ হেক্টরে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ হেক্টর বেশি। উর্বর দোআঁশ ও এঁটেল মাটিতে আখের ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে। জেলায় আধুনিক জাতের আখের মধ্যে ‘চাঁদপুর গেন্ডারী’ ও ‘রং বিলাস’ উল্লেখযোগ্য। এসব জাত সুস্বাদু, পুষ্টিকর এবং বাজারে চাহিদাসম্পন্ন বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, গত বছর ঝড়ে আখ হেলে পড়ে লাল হয়ে যাওয়ায় বিক্রি করতে অনেক সমস্যা হয়েছে। এতে লোকসান গুনতে হয়েছে। তবে এবার ফলন ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ঠিকমতো বিক্রি করতে পারলে গত বছরের ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে সরকারি সহায়তা আমরা তেমন পাই না। যারা প্রভাবশালী, তারাই বেশি সুবিধা পায়।
চাঁদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, আধুনিক জাতের আখ চাষ করলে রোগ ও পোকার আক্রমণ কম হয় এবং ফলনও বেশি পাওয়া যায়। পাশাপাশি জৈব সার ব্যবহারে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায় ও উৎপাদন টেকসই হয়। তাই মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের আধুনিক জাতের আখ চাষ এবং জৈব সার ব্যবহারে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
