বুধবার ২৪ জুন, ২০২৬ | ১০ আষাঢ়, ১৪৩৩

Advertise with us
আপডেট
Advertise with us

ইউরোপ যাওয়ার রঙ্গিন স্বপ্ন পূরণে গিয়ে লাশ হলেন কুলাউড়ার শামীম-এলাকায় শোকের ছায়া

ইউসুফ আহমদ ইমন, মৌলভীবাজার   |   রবিবার, ১২ মে ২০১৯   |   প্রিন্ট   |   ২৭৬৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ইউরোপ যাওয়ার রঙ্গিন স্বপ্ন পূরণে গিয়ে লাশ হলেন কুলাউড়ার শামীম-এলাকায় শোকের ছায়া

হাফিজ আহসান হাবীব শামীম (১৯)। হাফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে কোরানের হাফেজ হয়ে ভর্তি হন ইবতেদায়ী মাদ্রাসায়। এ বছর দাখিল পরীক্ষায় বসার কথা ছিল তার। কিন্তু ইরোপের রঙ্গিন স্বপ্ন তাকে ও তার পরিবারকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। পড়ালেখা গুটিয়ে পাড়ি জমান লিবিয়ায়। সেখান থেকে পাড়ি দিতে চান ইতালিতে। কিন্তু মাঝপথে সাগরে নৌকা ডুবে লাশ হলেন তিনি।
তিউনিসিয়ার সাগরের নৌকা ডুবিতে নিহত মৌলভীবাজারের বাসিন্দা আহসান হাবীব শামীম নিখুঁজ। শামীম মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের বাদেভুকশিমইল গ্রামের হাজি আব্দুল খালিকের ছেলে। সে সিলেট গোটাটিকর সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার দাখিলের ছাত্র ছিলেন।

নিহত শামীমের বড়ভাই আবু সাইদ জানান, সাত ভাই ও তিন বোনের মধ্যে শামীম সবার ছোট। স্থানীয় মাদ্রাসা থেকে সে হাফিজিয়া পাশ করে সিলেট গোটাটিকর সরকারি মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। সেখান থেকে এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল। গত রমজানে সে স্থানীয় মসজিদের তারাবি পড়াতে আসে। সেসময় তাকে ইরোপে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই প্রক্রিয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে দালালের মাধ্যমে তাকে ও বড় ভাই সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদের শ্যালকের সাথে লিবিয়া পাঠানো হয়। সেখান থেকে তারা ৩ দিন আগে ইতালির উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন আরেক দালালের মাধ্যমে। তারপর আমরা জানলাম সে তিউনিসিয়ায় নৌকা ডুবিতে নিহত হয়েছে। তার সাথে যারা ছিলেন তারাও নিহত হয়েছেন।

এদিকে শামীমের নিহতের সংবাদে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কান্নার রোল পড়েছে পরিবারের সদস্যদের মাঝে। স্বপ্নের ইউরোপ যাত্রার এমন সলিলসমাধি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। আদরের ছোট ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা মা রাজনা বেগম।

বিলাপের সাথে মা রাজনা বেগম বলেন, গত বৃহস্পতিবার সেহরীর সময় ছেলের সাথে ফোনে কথা হয়েছে। শামীম মায়ের থেকে দোয়া নিয়েছে। জানিয়েছিল দীর্ঘপথ পায়ে হাটার পর এবার তারা ৮০ জনের মত সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌঁছাবে। এটাই তার ছেলের সাথে শেষ কথা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সাহেদ আহমদ বলেন, গতকাল রাত পর্যন্ত আমি তাদের বাড়িতে ছিলাম। যেটুকুু জেনেছি, বাবা মারা যাওয়ার পর বড় আশা নিয়ে শামীমের মা তাকে ইউরোপ পাঠিয়েছিলেন। তার আরেক ভাই ইউরোপে থাকেন মূলত তারই পরামর্শে তাকে নিবিয়ায় পাঠানো হয়।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 

ফলো করুন 24todaynews.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
প্রভাষক আফাজুর রহমান চৌধুরী
অফিস