
নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নেপালের সীমান্তবর্তী রাসুয়ায় আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। বার্তাসংস্থা এপি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে চীনের স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল তিব্বত থেকে নেপালের ভোতেকুশ নদীর মাধ্যমে হঠাৎ করে পানি এসে আছড়ে পড়ে ঘনবসতিপূর্ণ গ্রামগুলোতে। এ সময় পানি ও কাঁদা মুহূর্তের মধ্যে গ্রাস করে শত শত মানুষকে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র স্থান কৈলাশ মানস সরোবরে যাওয়া অন্তত চারশ পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। যারমধ্যে প্রায় ১৪০ জন ভারতীয় রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরাও নিখোঁজদের তালিকায় আছেন।
নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বিপর্যস্ত এলাকায় ১৪টি হেলিকপ্টার ও কয়েকশ উদ্ধারকারীকে মোতায়েন করা হয়েছে।
আকস্মিক এ বন্যায় নেপালের রাসুয়া জেলা, পার্শ্ববর্তী সায়াফুরবেশি এলাকা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও যানবাহন বন্যার পানিতে ভেসে চলে গেছে।
বরফ ধসে আটকে যায় নদীর প্রবাহ, ভূমিকম্পের পর হঠাৎ নেমে আসে সব পানি
নেপালের কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্ত জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে তারা জানতে পেরেছেন সেখানকার লেন্দে নামে একটি নদীতে বরফ ধসের ঘটনা ঘটে। এতে নদীর পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে পানি আর স্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে না এসে জমতে থাকে। আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে যখন আকস্মিক বন্যার পানি নেপালে নেমে আসে; তখন তিব্বতে একটি ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ধারণা করা হচ্ছে ওই ভূমিকম্পের কারণে বরফ নড়ে যায় এবং লেন্দে নদীর পানি একসঙ্গে ভোতকোশি নদী দিয়ে নিমে নেমে আসে।
কান্তিপুর টিভিকে এ জলবায়ু গবেষক আরও বলেছেন, চীনের বিজ্ঞানীরা তাদের প্রাথমিকভাবে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমাদের কাছে একটি বরফ ধসের তথ্য এসেছে। যেটি নেপাল প্রান্তে ঘটে এবং লেন্দে নদীকে আটকে দেয়। ওই সময় তিব্বতে একটি ভূমিকম্পও হয়।”
সূত্র: পিটিআই, কাঠমান্ডু পোস্ট, এএফপি
