
নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

প্রত্যাহার আদেশের একদিন পর সোমবার রাতে সিলেট ছাড়ছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম। এরপর নতুন জেলা প্রশাসক না আসা পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা।
এসব তথ্য জানিয়ে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন বলেন, ‘সোমবার রাতেই ডিসি মহোদয় সিলেট ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। ডিসি মহোদয় চলে যাওয়ায় ভারপ্রাপ্ত ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা।’
শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স সিলগালা নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়া সারওয়ার আলমকে রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব হিসেবে যোগ দিতে বলা হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে, প্রত্যাহারের আদেশের পরদিন সোমবার প্রায় ৭০০ বছরের প্রচলিত রেওয়াজ ভেঙে প্রথমবারের শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনার উদ্যোগ নেন সারওয়ার আলম।
প্রকাশ্যে গণনা শেষে শাহজালাল (রহ.) মাজারে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থাপন করা ৩টি ডেগ ও একটি দানবাক্স খুলে গণনায় নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা এবং ৭ আনা সোনা পাওয়া যায়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন বলেন, ‘মাজারের টাকা সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামীয় একটি হিসাবে রাখা হবে। সম্প্রতি এই অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। পরবর্তীতের এই টাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিসি মহোদয় চলে যাওয়ায় ভারপ্রাপ্ত ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা।’
গত বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের ৩টি ডেগে সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন। একইসাথে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারে দানবাক্স বসানো হয়েছে। মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার কথা বলে ডেগ সিলাগালা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিজস্ব দানবাক্স স্থাপন করা হয়।
তবে এ নিয়ে মাজার সংশ্লিস্টদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা মাজারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের নিন্দা জানান। এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে রোববার জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তার এই হঠাৎ প্রত্যাহার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষোভ জানিয়ে রবি ও সোমবার সিলেটে বিক্ষোভ করা হয়।
সিলেট ছাড়ার আগে সোমবার তড়িঘড়ি করে তিনি দানবাক্সের টাকা গোণার কাজ শুরু করেন জেলা প্রশাসক। যদিও সম্প্রতি জেলা প্রশাসক জানিয়েছিলেন, ১৫ দিন পর দানবাক্সের টাকা গণনা করা হবে।
