
| মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫ | প্রিন্ট | ১৫০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

কুড়িগ্রামের রৌমারী, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারীর তিনটি সীমান্ত দিয়ে ৩৮ জনকে পুশইন করার ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে রৌমারী সীমান্তে ১৪ জন ভারতীয় নাগরিক এবং নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারীতে ২৪ জন রয়েছে। এ পুশইনের ঘটনায় ওই তিনটি সীমান্তে সকাল থেকে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বর্তমানে ওই নাগরিকরা শূন্য রেখায় অবস্থান করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আজ মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে রৌমারীর বড়াইবাড়ি সীমান্তে ১০৬৭ সীমানা পিলারের কাছে নোমান্সল্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তে কয়েক রাউন্ড গোলাগুলি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। বর্তমানে পুশইন ঠেকাতে এলাকাবাসীর সহায়তায় বড়াইবাড়ি বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে অবৈধভাবে ১৪ জন নারী-পুরুষকে বড়াইবাড়ি সীমান্ত দিয়ে পুশইন করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বিষয়টি বুঝতে পেরে পুশইন ঠেকাতে বাধা প্রদান করে বিজিবি। এ নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হলেও বিসএফের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
দুপুর ২ টা পর্যন্ত সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডেই পুশইন করা ব্যক্তিরা অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী। তারা সবাই ভারতের মুরগাঁও আসাম জেলার মৃত্তিকির ভিটা থানার বড়বেটা খান্দাপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
রৌমারী সীমান্তের জামালপুর-৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক ভারপ্রাপ্ত অ্যাডজুটেন্ট শামসুল হক জানান, বিএসএফ অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবি বাধা দিয়ে তা প্রতিহত করে। পুশইন করা ব্যক্তিরা কোন দেশের নাগরিক তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তারা দুই দেশে শূন্য রেখায় অবস্থান করছেন।
এদিকে জেলার ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট এলকার বাবুরহাট সীমান্তে ও নাগেশ্বরীর উপজেলার কেদার সীমান্ত দিয়ে আজ ভোরে আরও ২৪ জনকে পুশইনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে জেলার ৩ উপজেলা সীমান্তে ৩৮ জনকে পুশ ইন করেছে বিএসএফ।
এ নিয়ে ওই তিন সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি।
এ বিষয়ে জামালপুর-৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল হাসানুর রহমান ও কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মাহবুব উদ্দিন জানান, আমরা বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের জন্য আহ্বান জানিয়েছি। কিন্ত তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
