
নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এ বছর মানিকগঞ্জে পাটের ফলন ভালো হয়েছে। একই সঙ্গে পাটের ভালো দাম পাওয়ায় এ ফসল চাষে কৃষকদের আগ্রহও বেড়েছে। এবার জেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে জমি থেকে পাট ঘরে তোলার মৌসুম চলছে। ফলে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এখন পাটের ভরা মৌসুম। কেউ জমি থেকে পাট কেটে পানিতে জাগ দিচ্ছেন, কেউ জাগ দেওয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়াচ্ছেন। আবার কেউ আঁশ ধুয়ে রোদে শুকিয়ে বাজারজাত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দ্রুত বাজারে পাট নিতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যাবে—এমন আশায় কৃষকরা বাড়তি পরিশ্রম করছেন।
শিবালয় উপজেলার কৃষক রমেজ আলী বলেন, ‘এখন বাজারে পাটের দাম ভালো। এ কারণে পাট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি।’ তিনি বলেন, পাটখড়িরও চাহিদা রয়েছে। পাট ছাড়ানোর আগেই অনেক সময় খড়ি বিক্রি হয়ে যায়। প্রতি আঁটি পাটখড়ি ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ঘিওর এলাকার কৃষক হাশেম বলেন, প্রতিবছর পাট জাগ দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। এবার বর্ষা তেমন না হলেও বৃষ্টির পানিতে পাট জাগ দিতে পারছেন তারা। ফলে পানির তেমন সংকট নেই। তবে শ্রমিকের মজুরি অনেক বেশি। এর পাশাপাশি কাদাপানিতে কাজ করতে শ্রমিকদের অনীহা রয়েছে।
পাটের বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ করেন এই কৃষক। তিনি বলেন, হাটে পাটের ওজন নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম মানা হয় না। প্রতি মণে প্রায় দুই কেজি করে বেশি নেওয়া হয়। এর সঙ্গে হাটের খাজনাও দিতে হয়। এসব কারণে পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পাট চাষের শুরু থেকে আঁশ ছাড়ানো ও পানিতে জাগ দেওয়া পর্যন্ত কৃষকদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। কাদাপানিতে দীর্ঘ সময় কাজ করতে গিয়ে শরীরে চুলকানি, বমি বমি ভাব ও জ্বরসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় পড়তে হয়। এসব বিষয়ে কৃষি অফিস থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা বা খোঁজখবর পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাজাহান সিরাজ বলেন, ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় মানিকগঞ্জে পাটের আবাদ বাড়ছে। এবার জেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। পাটচাষিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
