
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বিক্রির পরিকল্পনা বাতিলের পরও নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা(উয়েফা)। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ফিফার বিশ্ববাপ ফুটবলসহ প্রতিযোগিতায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে তাদের ৫৫টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন এখনো অটল রয়েছে।
তারা জোর দিয়ে বলেছে, ফিফায় ফিরে আসার জন্য তাদের দেওয়া প্রধান শর্তগুলো পূরণে বিশ্ব ফুটবলের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্বকাপ স্বত্ব বিক্রির পর ঘোষণার পর ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি সর্বসম্মতিক্রমে ফিফার সব ইভেন্ট থেকে সরে আসার পক্ষে ভোট দিয়েছিল। এরপর ইনফান্তিনো সেই প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নেন এবং ক্রীড়াঙ্গন থেকে তীব্র চাপের মুখে বুধবার মরক্কোতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বের সমর্থন লাভ করেন।
তবে উয়েফা জানিয়েছে, ফিফার সঙ্গে পুনরায় সহযোগিতামূলক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ইনফান্তিনোর শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা প্রত্যাহারই একমাত্র শর্ত ছিল না। বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ফিফার প্রতিযোগিতায় অংশ না নেওয়ার বিষয়ে উয়েফার অন্তর্ভুক্ত অ্যাসোসিয়েশনগুলোর শর্তগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট ছিল। প্রথমত প্রধান প্রতিযোগিতাগুলোর মালিকানা বিক্রির প্রস্তাব প্রত্যাহার এবং ফুটবলকে বিকৃত করার প্রচেষ্টা আর কখনোই করা হবে না। এই শর্তগুলো পূরণ করা হয়নি।
উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর ফিফা ও ইনফান্তিনো একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করে এবং দাবি করে, উপস্থিত সবার পূর্ণ সমর্থন সভাপতির প্রতি রয়েছে। এমনকি তারা নিজেদের কাউন্সিল ও সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কাছে ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমাও চায় এবং ভবিষ্যতে যাতে এমনটা আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
কিন্তু উয়েফা তাতে সন্তুষ্ট হয়নি এবং একটি কঠোর বার্তা দিয়েছে, যেখানে ফিফার শীর্ষ পদে কে থাকবেন, সেই বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। শনিবার দেওয়া বিবৃতিতে উয়েফা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর তাদের আর কোনো আস্থা নেই। বৃহস্পতিবারের(৬ আগস্ট) বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সেই অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। যেখানে ফিফা সভাপতির অধীনে কর্মরত এবং তার অনুগ্রহের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরা তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন তাতে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয় না।
উয়েফা মঙ্গলবার আল জাজিরাকে নিশ্চিত করেছে যে, তারা ফিফার কাছে একটি ‘নথি সংরক্ষণ সংক্রান্ত চিঠি’ পাঠিয়েছে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো, চলমান বা ভবিষ্যতে হতে পারে এমন কোনো আইনি প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য প্রমাণ যাতে মুছে ফেলা বা ধ্বংস না করা হয়, তা নিশ্চিত করা।
সংকটকবলিত বর্তমান প্রধানের ওপর যখন চাপ বাড়ছে, তখন মহাদেশীয় সংস্থাটির ভাইস প্রেসিডেন্ট লরা ম্যাকঅ্যালিস্টার বৃহস্পতিবার বলেছেন, ফিফার পরবর্তী সভাপতিকে হতে হবে ‘এই খেলার অভিভাবক’, যিনি বিশ্ব ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম। ফিফার আয়োজিত কোনো অনুষ্ঠানে উয়েফার বয়কটের বিষয়টি প্রথম পরীক্ষার মুখে পড়বে ৫ সেপ্টেম্বর। ওই দিন পোল্যান্ডে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
