
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

যশোরের কেশবপুরে ধানক্ষেতের সেচযন্ত্রের গর্ত থেকে স্বামী-স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পরকীয়া সম্পর্ক দেখে ফেলায় বিষয়টি গোপন রাখতে পরিকল্পিতভাবে ওই দম্পতিকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তাদের মরদেহ গর্তে ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগম (৩৮) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি কেশবপুরের মাগুরখালি গ্রামের নুর ইসলামের স্ত্রী।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যশোর জেলা পুলিশের কনফারেন্স রুমে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম।
এর আগে গত ৩১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কেশবপুর উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের প্রভাত বিশ্বাসের ধানক্ষেতে সেচযন্ত্রের পানি পড়ার স্থানে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী ও এক পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে এবং তাদের পরিচয় শনাক্ত করে।
নিহতরা হলেন- আলেক নুর ইসলাম ও তার স্ত্রী মাজেদা বেগম। এ ঘটনায় নিহত দম্পতির মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, মামলা দায়েরের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে কেশবপুর থানা পুলিশের একটি দল। গত ২ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার জেসমিন ও নিহত মাজেদা বেগম নওয়াপাড়া আকিজ জুট মিলে কাজ করতেন।
পুলিশের তথ্যমতে, গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মিল বন্ধ থাকায় সকালে বাড়ির কাজ শেষ করে ২ জন ঘাস কাটতে মাঠে যান। এ সময় মাজেদার স্বামী আলেক নুর ইসলামও মাঠে কাজ করছিলেন। মাঠে যাওয়ার পথে জেসমিনের সঙ্গে মোস্তফা নামে এক ব্যক্তির দেখা হয়। পুলিশের দাবি, মোস্তফার সঙ্গে জেসমিনের প্রায় ৪-৫ মাস ধরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল।
মাঠে জেসমিন ও মোস্তফাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন মাজেদা। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা নিজেদের সম্পর্ক গোপন রাখতে মাজেদা ও তার স্বামী আলেককে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরে কৌশলে আলেক ও মাজেদাকে ঘেরের পাশে নিয়ে যান তারা। একপর্যায়ে তালতলা এলাকার বেড়ির কাছে পৌঁছালে মোস্তফা তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আলেকের শরীর ও মাথায় আঘাত করেন। অন্যদিকে, মাজেদার ওড়না দিয়ে তার গলায় ফাঁস দেন জেসমিন। পরে মাজেদার মৃত্যু নিশ্চিত করতে কাঁচি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়।
একপর্যায়ে ২ জনের মরদেহ পুরোনো সেচযন্ত্রের গর্তে ফেলে দেওয়া হয়। নিহত আলেক শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। আঘাতের পর গর্তে পড়ে যাওয়ায় তিনি সেখান থেকে আর উঠতে পারেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, জেসমিন ও মোস্তফার ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই এ জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। মোস্তফাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পলাতক মোস্তফা কামাল কেশবপুরের মাগুরখালি গ্রামের মৃত কিসমত সরদারের ছেলে।
