বুধবার ১৫ জুলাই, ২০২৬ | ৩১ আষাঢ়, ১৪৩৩

Advertise with us
আপডেট
কাউকে আঘাত করতে চাননি শিক্ষামন্ত্রী, বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ সাইবার স্পেসে মাদক ব্যবসায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে বিল পাস কুলাউড়া পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী প্রকৌশলী বদলী সিলেটে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী-শাশুড়ি পুলিশ হেফাজতে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বন্যার কবলে অর্ধলক্ষাধিক লোক শাহজালাল মাজারে ৪৭ লাখ টাকার সাথে আরও যা যা মিলল কুলাউড়ায় ফানাই নদীর সেতুর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা: দ্রুত সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন আগামী মাসে তপশিল, অক্টোবরে ইউপি নির্বাচন: তথ্য উপদেষ্টা সিলেটে বাড়ছে নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা ইরানে আজ রাতে আরও ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
Advertise with us

ডা. পবন চন্দ্র দেবনাথের ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুলাউড়া   |   রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২০   |   প্রিন্ট   |   ১১৮২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ডা. পবন চন্দ্র দেবনাথের ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

কুলাউড়া উপজেলার জনপ্রিয় হোমিও চিকিৎসক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাম্যবাদী দলের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. পবন চন্দ্র দেবনাথের ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৫ জুলাই রোববার। বহুমাত্রিক চিন্তা-চেতনার পুরোধা পুরুষ ছিলেন তিনি। কুলাউড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেড়ে ওঠেও ডা. পবন চন্দ্র দেবনাথ নিজের বিপ্লবী চিন্তা, আপোসহীন মনোভাব ও সাংগঠনিক দক্ষতা দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেন সর্বত্র। হৃদয়ে আজন্ম ধারণ করেছিলেন চীনের কৃষি ও সাংস্কৃতিক বিপ্লবের তাৎপর্য। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর নিজবাড়িতে (বনগাঁও-২) পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ডা পবন চন্দ্র দেবনাথের জ্যেষ্ঠ পুত্র ডা. বিজয় কৃষ্ণ দেবনাথ (বাবুল) এর বাবা সম্পর্কে স্মৃতিচারণমূলক লিখা হুবহু নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ ১৯৩৬ এ জন্ম নেওয়া ডা. পবন চন্দ্র দেবনাথ রাজনৈতিক হাতে কড়ি ৫০ এর দশক এর গোড়ার দিক থেকে রাউৎগাঁও স্কুলে এন্ট্রাস পড়া অবস্থায়। হিঙ্গাজিয়া গ্রাম নিবাসী ড. বিজন বিহারী পুরকায়স্থের হাত ধরে। ড. বিজন বিহরী পুরকায়স্থ ভারতে চলে যান। কমিউনিস্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি উনি ছিলেন রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ও ডিন। অবসরের পর তিনি তিনবার বাংলাদেশ সফর করেন। উঠেছিলেন আমাদের বাসায় উত্তর বাজার কুলাউড়ায়।

মূলত ডা. পবন চন্দ্র দেবনাথ ১৯৬২ সালে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য পদ লাভ করেন। রাজনৈতিক কারণে পরিবার থেকে সরে থাকতেন বেশিরভাগ সময়। উনার জীবন মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত ছিলো। যা পরবর্তীতে আমি বিস্তারিত লেখার চেষ্টা করবো। ১) রাজনৈতিক, ২) সাংস্কৃতিক ও নাট্য, ৩) হোমিও গবেষণা পঞ্চাশ সহস্রতমিক পদ্ধতি প্রতিষ্ঠাসমূহ। উনার কর্মময় জীবনের রাজনীতির পাশাপাশি দলিল লেখক, সহকারী সরপঞ্চ, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যসহ সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। উনার কর্মক্ষেত্র এত ব্যাপক ছিলো যে সল্প পরিসরে বলা মুশকিল। ১৯৮৪ সালে এরশাদ সরকারের সামরিক শাসন চলছে ডা. পবন চন্দ্র তখন ধানমন্ডী, ঢাকা-১৯৭, গ্রীণ রোড (বর্তমান কলাবাগান থানা) হোমিও প্র্যাকটিস এর পাশাপাশি সাম্যবাদী দলের সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকায় অবতীর্ণ। চাপ আসে সরকার থেকে, আসে গোয়েন্দা নরজদারি চেম্বারের উপর। রোগী সেজে আসতেন সামরিক কর্মকর্তারাও। আসতেন বুদ্ধিজীবী সমাজ, উল্লেখ না করলে নয় চেম্বারে আসতেন সাবেক মন্ত্রী বি.এম আব্বাস, জাতীয় অধ্যাপক কবির চৌধুরী, ড. হামিদউল্লা খান, ড. এস এম লুৎফুর রহমান। পরিশেষে আসে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল মান্নান সিদ্দিকীর পক্ষ থেকে প্রস্তাব। এরশাদ সাহেব পাঠিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রীর পদ গ্রহণ করার জন্য।ডা. পবন চন্দ্র দেবনাথ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর গোয়েন্দাদের অতিরিক্ত চাপের কারণে স্ট্রোক করে দেড় মাস পিজি হাসপাতাল I.P.G.M.R বর্তমান বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ছিলেন। অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী বি. এম আব্বাস সাহেব দেখা করতে গেলেন। উনারা পবন বাবুর চিকিৎসার ত্রুটি দেখে দেখা করলেন তৎকালীন পিজি হাসপাতালের মহাপরিচালক ডা. নুরুল ইসলাম সাহেবের সাথে। সরকারি খরচে ডা. পবন বাবুর চিকিৎসার দাবি জানানো হয়, এগিয়ে আসলেন কমরেড দিলীপ বড়ুয়া। গঠিত হয় মেডিকেল টিম। সরকারি খরচায় এ যাত্রায় বেঁচে গেলেন। ৫ জুলাই, ১৯৯১ সকল কর্মের অবসান ঘটিয়ে অকালে চলে গেলেন ডাঃ পবন চন্দ্র দেবনাথ।

প্রসঙ্গত, ডা. পবন চন্দ্র দেবনাথ সাপ্তাহিক সীমান্তের ডাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, কবি ও শিক্ষক সঞ্জয় দেবনাথের পিতা।#

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

ফলো করুন 24todaynews.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
প্রভাষক আফাজুর রহমান চৌধুরী
অফিস