শনিবার ২৭ জুন, ২০২৬ | ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩

Advertise with us
আপডেট
Advertise with us

কুলাউড়ায় ক্যান্সার আক্রান্ত শাহনাজ বেগম বাঁচতে চায়

ইউসুফ আহমদ ইমন, মৌলভীবাজার   |   বুধবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০   |   প্রিন্ট   |   ১২৯১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

কুলাউড়ায় ক্যান্সার আক্রান্ত শাহনাজ বেগম বাঁচতে চায়

ভয়াবহ মরণব্যাধির নাম ক্যান্সার। এটা থেকে মুক্তির উপায় আছে, কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন সময় মতো চিকিৎসার ও অর্থের। এর চিকিৎসা খরচ অনেক বেশি হওয়ায় বহু রোগী মারা যায়। মরণব্যাধি ক্যান্সার অকালেই কেড়ে নিচ্ছে আমাদের প্রিয় মানুষগুলোকে। আমরা কেউ জানিই না যে নিজের অজান্তেই কে কোন ক্যান্সারের বীজ বহন করে বেড়াচ্ছি নিজের শরীরে। যখন জানতে পারি তখন সেটা চলে যায় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ঠিক তেমনই আমাদের একজন মা জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের সুচিকিৎসার জন্য সরকার এবং সব শ্রেণির হৃদয়বান মানুষদের নিকট জরুরিভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে আকুল আবেদন জানিয়েছে তারই এক ছেলে। জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত ৩৮ বছর বয়সী মাকে বাঁচাতে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিত্তবান লোকদের সহযোগিতা চেয়েছে।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার রেলওয়ে কলোনীর পরীনগর গ্রামে থাকেন শাহনাজ বেগম। শাহনাজের ছেলে শাহদাত ইসলাম হিরা (১৭) বলেন, সংসারের অভাব অনটনের কারণে ‘আমি ঢাকার একটি রেষ্টুরেন্টে চাকরী করতাম। আম্মার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর থেকে উনার সাথেই আছি। আম্মার চিকিৎসায় অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। আমাদের কাছে যা ছিলো তা খরচ করে ফেলেছি। পরিচিত অনেকের কাছ থেকে ঋণ করেছি। এখন কি করবো বুঝতে পারছি না। আমার আম্মা কে আপনারা বাঁচান। আম্মার যন্তনা সইতে পারছি না। খুব কষ্ট পাচ্ছে আম্মা। আম্মাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন সবাই। এভাবে মাকে বাঁচানোর কথা বলছিল তার ছেলে।

জানা যায়, অভাব অনটনের সংসারে ছেলেকে অল্প বয়সে পাঠিয়েছেন ঢাকার একটি হোটেলে চাকরী করতে। মাস শেষে ছেলের মাইনে দিয়ে চলতো সংসার। নিজে কুলাউড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে করতেন ঝিয়ের কাজ। অফিসে কর্মরত স্টাফরা যে যার মতো করতেন সহযোগীতা। হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে বিছানায় কাতরাতে থাকেন। চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষা করে জানতে পারেন তিনি জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে গ্রহণ করেছেন একটি কেমোথ্যারাপী। সেই খরচ সামলাতে ঋণ করতে হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শাহনাজের স্বামীর সাথে প্রায় ১১ বছর আগে থেকে সাংসারিক টানাপোড়েন ছিলো। স্বামী খোঁজখবর নিতেন না। গত প্রায় ২ বছর আগে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ডিভোর্সের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। এরপর থেকেই দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন শাহনাজ বেগম। নিজের অসহায়ত্ব ও অভাবের সংসার নিয়ে যখন হতাশার ধোঁয়াশা নিয়ে চলছিলো দিনাতিপাত ঠিক এমন সময় এরকম রোগে আক্রান্ত অনেকটা ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘাঁ’। গত বছরের নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় কুলাউড়ার বিভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শ নেন তিনি। উনাদের পরামর্শে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হসপাতালে যান ২৬ ডিসেম্বর। সেখানে কোন উন্নতি না হওয়ায় ডাক্তার ইশরাত জাহানের পরামর্শে ঢাকার প্যানপ্যাসিফিক মেডিকেলের গাইনী বিশেষজ্ঞ সারিয়া তাসনিমের কাছে যান। তিনি পরীক্ষা নীরিক্ষা করে জরায়ু ক্যান্সার সম্ভাবনা দেখে রেফার্ড করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজে। ৫ জানুয়ারী ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে যান। সেখানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের রেডিওথেরাপি বিভাগের প্রধান ও ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় জরায়ু ক্যান্সারের বিষয়টি নিশ্চিত হোন। পরে কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, সার্জারীর দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ইতোমধ্যে একবার কেমোথেরাপি দেয়া হয়েছে। তবে এরকম কেমোথেরাপি ছয় থেকে আরও বেশীবার দেয়া লাগতে পারে জানিয়েছেন চিকিৎসক। একটা কেমোথেরাপি দিতে সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

অসহায় শাহনাজ বেগম বলেন, ‘এমনিতেই খুব অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে সংসার চালাচ্ছি। দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে চলছে কোনরকম সংসার। বাচ্চাদের অভিভাবক আমি ছাড়া কেউ নেই। আমার যদি কিছু হয় তবে আমার বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ অনেক কঠিন হয়ে যাবে। অন্তত বাচ্চাদের জন্য হলেও আমি বাঁচতে চাই। কিন্তু এতো ব্যায়বহুল চিকিৎসা করানো আমার পক্ষে সম্ভব না। সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে সাহায্য প্রার্থণা করা ছাড়া কোন উপায় নেই।’

উল্লেখ্য, শাহনাজ বেগমকে কেউ সাহায্য করতে চাইলে যোগাযোগ ও বিকাশ (ব্যক্তিগত) করতে পারেন এই (০১৭৫৬৩৬৩৯৭২) নাম্বারে। এবং সোনালী ব্যাংকের মৌলভীবাজারের কুলাউড়া শাখায় শাহনাজ বেগম নামে একটি সঞ্চয়ী হিসাব (নং- ৫৮১০৭০১০২১২৬৬), এই একাউন্টে টাকা জমা করতে পারেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 

ফলো করুন 24todaynews.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
প্রভাষক আফাজুর রহমান চৌধুরী
অফিস