
| সোমবার, ৩১ জুলাই ২০২৩ | প্রিন্ট | ১৫২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় নাজেহাল মৌলভীবাজার ও সিলেটের মানুষ। তীব্র দাবদাহের পাশাপাশি ভাইরাসজনিত জ্বর, সর্দি, কাশি দেখা দিয়েছে ঘরে ঘরে। এছাড়া বিদ্যুতের নাজুক অবস্থার কারণে নাকাল হয়ে পড়েছে এই অঞ্চলের মানুষ। বেড়ে গেছে হাতপাখার কদর।
প্রচণ্ড গরমে গত কয়েকদিন ধরে শ্রমজীবী মানুষ মাঠে কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। আবহাওয়ার এই বৈরী আচরণে ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে রোগ-বালাই।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ সজিব আহমদ বলেন, সমুদ্রে নিম্নচাপের কারণে এবছর সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টি কম হওয়াতে গরমটা বেশি অনুভূত হচ্ছে। বৃষ্টি শুরু হলেই সিলেটসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রা কমে আসবে।
এদিকে প্রচণ্ড রোদে খাঁ খাঁ করছে চারদিক। শহরে দুপুরবেলা ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত রিকশাচালকদের লাইন ধরে গাছতলায় বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে।
কষ্টের সাথে রিকশাচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রচণ্ড রোদের কারণে রিকশায় কেউ উঠছে না। তাই আয় নেই।
অপরদিকে চিকিৎসকরা বলছেন, এমন আবহওয়ায় হিটস্ট্রোক, চর্মরোগসহ শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
বিদ্যুতের লোডশেডিংসহ গরমকে ঘিরে সিলেট বিভাগসহ সবকটি জেলা ও উপজেলার ফুটপাতগুলোতে তালপাখাসহ বাঁশ, কাপড় ও সুতার তৈরি বিভিন্ন ধরনের হাতপাখার পসরা সাজিয়ে বসেছে ব্যবসায়ীরা। ১০ টাকার হাতপাখা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। কয়েকদিন ধরে হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় চরম বেকায়দায় পড়েছেন লোকজন।
আবহাওয়া অধিদফতরের ২৪ ঘণ্টার সর্বশেষ পূর্বাভাসে দেশের আট বিভাগেই অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।
তাপপ্রবাহের বিষয়ে এতে বলা হয়েছে, সিলেট বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কিছু কিছু জায়গা হতে প্রশমিত হতে পারে। এছাড়ও ঢাকা, টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, রংপুর, নেত্রকোনা, সীতাকুণ্ড, রাঙ্গামাটি, কুমিল্লা, ফেনী, মোংলা, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলসহ রাজশাহীতে তাপপ্রবাহ বইছে।
