সিলেট জুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ধর্ষণ

শুক্রবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ২:২১ পূর্বাহ্ণ | 122

সিলেট জুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ধর্ষণ

অতিথি প্রতিবেদক :

সিলেট বিভাগে বেড়েই চলেছে ধর্ষণের ঘটনা।এতে সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।প্রতিনিয়ত প্রেম ও বিয়ের প্রলোভনে পড়ে ঘটছে ধর্ষণের ঘটনা।বেশীর ভাগ এসব ঘটনার শিকার হচ্ছে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণীরা।আর পরকিয়ার প্রেমে পড়ে বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন কতিপয় গৃহবধূ।তবে কেউ কেউ চাকুরীর প্রলোভনে পড়েও ধর্ষণেত শিকার হচ্ছেন।শুধু আগস্ট মাসেই সিলেট বিভাগে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৭টি।এসব ঘটনায় ৩ জন শিশু,৫ জন তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

প্রেম কিংবা বিয়ে এই দুটি বিষয় পুরোটা বিশ্বাসের উপর নির্ভর।সেই বিশ্বাসের জায়গাতে ভুল হওয়াতেই সিলেট বিভাগ জুড়ে বেড়েছে ধর্ষণ।এসব ঘটনায় থানায় মামলা হলেও তেমন কোন প্রতীকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগিরা।আর বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় অনেকেই আত্মসম্মানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আইনী পদক্ষেপও নেন না।

আইনি অবহেলা ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে সিলেট জুড়ে ধর্ষণের এ মহামারী, অভিভাবকদের ভাবিয়ে তুলেছে।সচেতনমহল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে এক্ষেত্রে আরো কঠোর হওয়ার দাবী জানিয়েছেন।

জানা যায়,আগস্ট মাসের ৩ আগস্ট সিলেটের ওসমানীনগরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের বাসিন্দা ওই তরুণীর সঙ্গে এক বছর আগে নবীগঞ্জের আউমকান্দি এলাকার রুবেলের পরিচয় হয়।এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।গত ৩ আগস্ট রুবেল ওই তরুণীকে ফোন করে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং তাকে ওসমানীনগরের সিকন্দরপুর গ্রামে আসতে বলেন।ওই তরুণী কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে ৬ হাজার টাকা নিয়ে বের হয়ে সিকন্দরপুর গ্রামে চলে আসেন।পরে মেয়েটিকে রুবেল তার এক বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে যান।

কিছুক্ষণ পর রানা ও করিম নামে দুজনকে নিয়ে রুবেল ওই তরুণীর হাত-পা বেঁধে তাকে ধর্ষণ করেন।এরপর রাতভর তাকে আটকে রেখে সবাই মিলে ধর্ষণ করেন। ভোরের দিকে তারা তাদের বন্ধু কামাল ও জাহাঙ্গীরকে খবর দেন।

তারা দুজন এসে মেয়েটিকে মারধর করে কানের দুলসহ মোবাইল এবং নগদ পাঁচ হাজার টাকা রেখে বের করে দেন।পরে ওই তরুণী টমটমে বেগমপুর নেমে কান্না করতে থাকলে স্থানীয় আনোয়ার আলী ও আব্দুর রহিম তাকে থানায় নিয়ে যান।সেখানে তরুণী একটি মামলা দায়ের করেন।

ধর্ষণের শিকার তরুণীর অভিযোগ,আসামি রুবেল,রানা ও করিম তাকে ধর্ষণ করেছেন।আর জাহাঙ্গীর ও কামাল তাদের সহযোগিতা করেছেন।এরপর তার ২০ হাজার টাকার মোবাইল সেট,নগদ পাঁচ হাজার টাকা এবং ২০ হাজার টাকার স্বর্ণের কানের দুলও কেড়ে নেন তারা।

এ ঘটনায় ভিকটিম পরদিন রাতে থানায় মামলা করলে পুলিশ তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে।গ্রেফতারকৃতরা হলেন-উপজেলা উমরপুর ইউপির সিকন্দরপুর মাইজগাওয়ের মৃত আহাদ মিয়ার ছেলে মো.জাহাঙ্গীর (৩২), একই গ্রামের মৃত তছর মিয়া চৌধুরীর ছেলে সাইফুর রহমান চৌধুরী রানা ও উপজেলার পূর্ব ব্রাহ্মণ গ্রামের মো.আকলু হোসেন লুদু মিয়ার ছেলে মো.কামাল হোসেন (৩৪)।

গত ১৪ আগস্ট দুপুরে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের বদরগাজী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাক প্রতিবন্ধি ৪র্থ শ্রেণীর এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়।সে স্কুলের পাশের একটি টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে গেলে চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি গ্রামের নিম্বর আলীর ছেলে মসতু মিয়া তাকে তার চায়ের স্টলে নিয়ে ধর্ষণ করে।এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা চুনারুঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।এরপর র‌্যাব অভিযান চালিয়ে দ্রুততম সময়ের মাঝে মসতু মিয়াকে গ্রেফতার করে।

গত ১২ আগস্ট সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় পিতার বিরুদ্ধে শিশু মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার একটি মামলা দায়ের করে মেয়ের মা।এরপর ওই অভিযুক্ত পিতাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৯।গ্রেপ্তারকৃত আসামীর নাম হেলাল আহমদ ভলন (৫৫)।সে লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নে।

মামলা সূত্রে জানা যায়,গত ৪ বছর ধরে বাবার কাছে ধর্ষণের শিকার হয়ে আসছিল ১৩ বছর বয়সী ওই শিশু।শিশুটির মা প্রবাসে থাকতেন।সম্প্রতি তিনি দেশে আসার পর শিশুটি তার মাকে সবকিছু খুলে বলে।এরপর মা বাদী হয়ে ১২ আগস্ট গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযোগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে র‌্যাব-৯ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।

এ মাসের ১৯ তারিখ সিলেটের গোলাপগঞ্জের লক্ষণাবন্দে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই মাদ্রাসার ছাত্রীকে একা পেয়ে উপজেলার লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের উত্তরগাও গ্রামের মৃত মজাইদ আলীর ছেলে গিয়াস উদ্দিন পারভেজ তার বসতঘরের টিউবওয়েলের পাশে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে।পরে ভিকটিম বিষয়টি মাকে খুলে বললে ভিকটিমের মা গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২০)।ওইদিন রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে নিজ এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ।

১৯ আগস্ট রাত ৯টা থেকে ২১ আগস্ট দিবাগত রাত প্রায় ৩ টা পর্যন্ত নগরীর জালালাবাদ থানার নাজিরেরগাঁওয়ের জুবায়ের হোসেনের স্ত্রী জুলেখা প্রকাশ জুলির (১৯) ঘরে এক যুবতিকে (২৩) আটকে রেখে ৭ জন ধর্ষণ করেন।এ কাণ্ডে সহযোগিতা করেন জুলেখা।ভুক্তভোগী ওই যুবতীর বাড়ি ময়মনসিংহে।তিনি থাকেন ঢাকার আজমপুরে।

এ ঘটনায় ধর্ষিতা যুবতী ঢাকা থানায় অভিযোগ দায়ের করলে সে অভিযোগের ভিত্তিতে ২৩ আগস্ট সিলেটের জালালাবাদ থানায় মামলা (নং-২৪) দায়ের করা হয়।মামলা দায়েরের পর জালালাবাদ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জুলেখা প্রকাশ জুলি, জুবায়ের হোসেন (২৮) ও জয়নাল মিয়া (৪০)-কে গ্রেফতার করে।

এর মধ্যে জুলেখা প্রকাশ জুলি সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর থানার মেরুয়াখলা গ্রামের আবুল কালামের মেয়ে,জুবায়ের হোসেন সুনামগঞ্জ সদর থানার হাছননগর গ্রামরে জুনু মিয়ার ছেলে ও জয়নাল মিয়া সিলেটের জালালাবাদ থানার নাজিরেরগাঁওয়ের আব্দুল মছব্বিরের ছেলে।

এরপর ২৩ আগস্ট সিলেটে আরেকটি গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে।সিলেট মহানগরীর একটি আবাসিক হোটেলের দুটি কক্ষে দুই তরুণীকে আটকে রেখে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

ওইদিন দিবাগত রাতে মহানগরীর পাঠানটুলাস্থ জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী গ্রিন হিল আবাসিক হোটেলে এ ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় ভিকটিম দুই তরুণী সিলেটের জালালাবাদ থানায় পৃথক মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে,সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার এক তরুণী (১৮) কয়েক মাস আগে আইএলটিএস পড়ার জন্য সিলেট মহানগরীতে এসে আরেক নাট্যশিল্পী তরুণী (২৫)-এর সঙ্গে শাহজালাল উপশহরের একটি বাসায় থাকতে শুরু করেন।উপশহর এলাকায় থাকার সুবাধে ওই এলাকার স্নেহা বিউটি পার্লারের গিয়ে তানজিনা আক্তার তানিয়া (২৫) নামের এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয়।তানিয়া সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়সিদ্দি গ্রামের দবির মিয়ার মেয়ে।

তিনি শাহজালাল উপশহরের এইচ ব্লকের ৪ নং রোডের আলী ভিলা নামক ৫ তলা বাসায় ভাড়াটে থাকেন।পরিচয়ের এক পর্যায়ে তানিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে সিলেটে আইএলটিএস করতে আসা সেই তরুণীর।বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সুবাধে গত ২৩ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে তানিয়া ফোন করে ওই তরুণীকে বলেন-তার ভাইয়ের জন্য এবি পজেটিভ রক্ত প্রয়োজন।ওই তরুণীর এবি পজেটিভ রক্ত হওয়ায় তিনি যেন এক ব্যাগ রক্ত দেওয়ার জন্য রাগীব-রাবেয়া হাসপাতালে যান।

এমন ফোন পেয়ে ওই তরুণী তার বন্ধবীকে (২৫) নিয়ে তৎক্ষণাৎ রাগীব-রাবেয়া হাসপাতালের সামনে যান।সেখানে গিয়ে তানিয়াকে দেখতে পেয়ে রক্ত দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি ওই দুই তরুণীকে জানান-রক্ত দেওয়ার আগে তার এক কাজিনের বাসায় একটু প্রয়োজন আছে।প্রয়োজন শেষ করে তারা হাসপাতালে যাবেন।এ কথা বলে কৌশলে ওই দুই তরুণীকে জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী গ্রিন হিল আবাসিক হোটেলের ৪র্থ তলায় নিয়ে যান তানিয়া এবং তাদের দুজনকে আলাদা আলাদা কক্ষে বসিয়ে রাখেন।

এসময় তানিয়ার সহযোগী কয়েকজন তরুণ ও যুবক এসে ওই দুই তরুণীকে আটকে রাখেন এবং রাত সাড়ে ১১টা থেকে একের পর এক ১০-১২ জন যুবক তাদের দুজনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।

এছাড়াও ভিকটিম এক তরুণীর (১৮) কাছ থেকে তার মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা পয়সা জোরপূর্বক নিয়ে যান তানিয়া ও ধর্ষকরা।

এর পরদিন ২৪ আগস্ট দুপুর ১টার দিকে ভিকটিম দুই তরুণীকে এক কক্ষে নিয়ে তাদের কাছ থেকে ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি এ মর্মে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয় এবং এ কথা গুলো মোবাইল ফোনে ভিডিও করে তাদের ছেড়ে দেন তানিয়া ও তার সহযোগিরা।

ঘটনার পর দুই ভিকটিম তরুণী জালালাবাদ থানায় পৃথক মামলা দায়ের করেছেন। তানিয়া ছাড়াও এই দুই মামলার আসমিরা হলেন-সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার নগর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মোহাইমিন রহমান রাহি (৩৩),সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার গোবিগন্দগঞ্জ গ্রামের মৃত তহুর আলীর ছেলে জুবেল (৩১),সিলেট নগরীর পাঠানটুলা এলাকার আলী আকবরের ছেলে রানা আহমদ শিপলু ওরফে শিবলু (৩৫), সুনামগঞ্জ সদর থানার হরিনাপাট গ্রামের ফরহাদ রাজা চৌধুরীর ছেলে নাবিল রাজা চৌধুরী (৩৫) ও সুজন (৩৫) এবং অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জন।

এ মাসে সর্বশেষ গত ২৫ আগস্ট হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে আরেকটি সংঘবদ্ধ গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে।ওইদিন রাত ৮টার দিকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রামের জনৈক নারীকে চাকরিসহ বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে শহরের ২নং পুল বাইপাস রোড এলাকায় নিয়ে আসে।সেখানে একটি পরিত্যক্ত টিনশেট বিল্ডিংয়ে নিয়ে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়।

পরে এ ঘটনায় ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে গত ২৮ আগস্ট ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

বিষয়টি নজরে আসলে র‌্যাব-৯ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একদল সদস্য অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান শুরু করে।এক পর্যায়ে রোববার সন্ধ্যায় শহরতলীর পেট্রোল পাম্প এলাকা রাজা মিয়া ও বাচ্চু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।পরে রাতেই হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-হবিগঞ্জ শহরতলীর বড় বহুলা গ্রামের মৃত কালু মিয়ার পুত্র রাজা মিয়া (৩০),একই গ্রামের আবু মিয়ার পুত্র বাচ্চু মিয়া (৪০) ও উমেদনগর গ্রামের আব্দুল মতিনের পুত্র আফজল মিয়া (২৫)।

এদিকে,হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ শহরতলীর উমেদনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপর আসামী আফজল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।এমতাবস্থায় সচেতনার পাশাপাশি ধর্ষণের ঘটনা সামাজিক ভাবে প্রতিহত করা না গেলে দিনে দিনে এসব ঘটনা বৃদ্ধি পাবে।সেই সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার জন্য পরামর্শ সচেতন মহলের।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

Development by: webnewsdesign.com