সিলেটে অধিক সন্তানে ঝুঁকছেন নারীরা! বাড়ছে নবজাতকের মৃ*ত্যু

শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ১০:৫৬ অপরাহ্ণ | 69

সিলেটে অধিক সন্তানে ঝুঁকছেন নারীরা! বাড়ছে নবজাতকের মৃ*ত্যু

পাহাড় ঘেরা সিলেট। প্রতিবছরই বন্যা বা ফ্লাশ ফ্লাডের কবলে পড়ে এই অঞ্চল। বার বার বন্যায় দুর্যোগপ্রবণ সিলেটের মানুষরা পড়ছেন নানা সমস্যায়। দুর্যোগের কারণে শিশুমৃত্যুর হার বেশি হওয়া সিলেটের নিম্নবিত্ত পরিবারে। তাই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। তাই এসব পরিবারে এখন অধিক সন্তান জন্মদানের প্রবণতাও বাড়ছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী নেচারের হিউম্যানিটিস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস কমিউনিকেশনস জার্নালে সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে এই তথ্য উঠে এসেছে।

এতে বলা হয়েছে, সিলেটের অর্ধেকের বেশি নারীর মধ্যে তিন বছরের কম ব্যবধানে সন্তান জন্ম দেয়ার প্রবণতা বেশি। এসব এলাকার ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ নারীর মধ্যে এ প্রবণতা দেখা যায়। আর দুর্যোগের ঝুঁকি নেই, এমন এলাকায় এ হার ৩৬ শতাংশ। ১৫ থেকে ২৪, ২৫ থেকে ৩৪ ও ৩৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সসীমার নারীদের তথ্য নেয়া হয়েছে। এতে দেখা যায়, দুর্যোগপ্রবণ এলাকা (সিলেট ও চট্টগ্রাম উপকূলীয় অঞ্চল) চারটির বেশি সন্তান রয়েছে ৪৭ শতাংশ নারীর। দুর্যোগপ্রবণ নয় এমন এলাকায় চার সন্তান রয়েছে ৩৬ শতাংশ নারীর। অন্যদিকে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ৩৫ শতাংশ মায়ের এক বা একাধিক সন্তান মারা গেছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার ৫৯ শতাংশ মা সন্তানের মৃত্যু নিয়ে আশঙ্কায় ভোগেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, সিলেট বিভাগে শিশুমৃত্যুর হার তুলনামূলক বেশি। এ বিভাগে প্রতি হাজার পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মধ্যে ৬৭টির মৃত্যু হয়েছে। আর মোট প্রজনন হার ২ দশমিক ৯ শতাংশ। পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট অধ্যাপক ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, ‘দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় শিশুমৃত্যুর হার বেশি, পাশাপাশি সন্তান জন্মদানের প্রবণতা বেশি। দুর্যোগ বেশি হলে সন্তান জন্মদানের প্রবণতা বাড়বে। যেসব এলাকা দুর্যোগ হয় সেসব এলাকায় গর্ভপাত বেশি, লবণাক্ততার কারণে উচ্চ রক্তচাপ বেশি হয়। এতে ওইসব এলাকার নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিউমোনিয়ার পর পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার বেশি। দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় অন্যান্য সমস্যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগের অবকাঠামো না থাকা। আর যেসব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলোর ব্যবস্থাপনা ও সুবিধার অভাব রয়েছে। বন্যার ফলে পানি দূষণ হয়। এতে ডায়রিয়া, কলেরায় শিশুদের মৃত্যু হয়। ফলে পরিবারগুলো নিরাপত্তার অভাবে পড়ে। কেউ নিঃস্ব হতে চায় না। কোনো কোনো শিশু দুর্যোগের কারণে বিকলাঙ্গ হয়। ফলে সক্ষম দম্পতিগুলো অধিক সন্তানের প্রত্যাশা করে। দুর্যোগ তাদের মধ্যে সন্তান হারানোর শঙ্কার জন্ম দেয়। যোগ করেন এই অধ্যাপক। জলবায়ু পরিবর্তনে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় নারীদের মধ্যে সন্তান জন্ম দেয়ার প্রবণতার পেছনে শিশুমৃত্যুর মতো পরোক্ষ কারণের পাশাপাশি কিছু মানসিক বিষয়ও কাজ করে বলে মনে করেন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মাহবুবুল হাসান সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত এলাকার বাসিন্দাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার সময় দেখেছি, বেশি সন্তান জন্ম দেয়ার প্রবণতা ওই এলাকার দম্পতিগুলোর রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়া এবং সামাজিকভাবে মর্যাদা লাভের ক্ষেত্রে বেশি সন্তান একটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।’

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

Development by: webnewsdesign.com