সোমবার ১০ আগস্ট, ২০২৬ | ২৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩

Advertise with us
আপডেট
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারীর তালিকায় মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম কুলাউড়া সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত কুলাউড়ার অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত ভবানীপুরে আ.লীগ নেতার ছেলের বিরুদ্ধে গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ষণের মামলা ফিফার বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্তে অটল উয়েফা শ্রীমঙ্গলে মাছের জালে আটকা পড়ে অজগরের মৃত্যু সিলেটে শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পঞ্চাশ পেরোনো আমিশা এখনও ‘সিঙ্গেল’ থাকতে চান যে ৭ অভ্যাস আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে সচিবালয় ঘেরাও করতে গেল ১১ দলীয় ঐক্য, আটকে দিলো পুলিশ
Advertise with us

শ্রীমঙ্গলে সৌদি প্রবাসী নববধূকে হত্যার অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯   |   প্রিন্ট   |   ৫৭৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

শ্রীমঙ্গলে সৌদি প্রবাসী নববধূকে হত্যার অভিযোগ

শ্রীমঙ্গলে বিয়ের ৩ মাসের মাথায় এক নব বধূকে বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে নববধুর বাবা মো. সুলতান মিয়া উপজেলার রামনগর গাজীপুরের মেয়ের জামাই মনির ড্রাইভার,সৎ শ্বশুর হারুন ড্রাইভার, শ্বাশুরি মনি বেগম, খালা শ্বাশুরি রাণী বেগম কে আসামী করে শ্রীমঙ্গল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় ও থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ আগষ্ট উপজেলার খাসগাঁও এলাকার মরিয়ম বেগম (২৫) এর সাথে রামনগর গাজিপুর এলাকার মনিরুল ইসলাম মনিরের সাথে পূর্ব প্রেমের সূত্র ধরে মনিরুলের মায়ের অজান্তে বিয়ে হয়।

মনিরুলের মা মনি বেগম নিজেও সৌদি প্রবাসী।

সৌদি যাবার পূর্ব থেকেই মরিয়মের সাথে মনিরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এক পর্যায়ে মনির মরিয়মকে দেশে ফিরিয়ে আনে। বিয়ের পর থেকেই মনির মরিয়মকে ঘরে তুলে নেয়। এক পর্যায়ে বিদেশ থেকে আনা মরিয়মের সব টাকা পয়সা সে হাতিয়ে নেয়। মনিরের প্রবাসী মা মনি বেগম গত সেপ্টেম্বরে দেশে ফিরেন। তিনি ছেলের এই বিয়ে মন থেকে মেনে নিতে পারেননি। কিছু দিন পর মনি বেগম মরিয়মকে অনুষ্ঠান করে ঘরে তোলার কথা বলে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। এরপর পরই মনি ছেলেকে নিয়ে দেশের বাড়ী নোয়াখালি যায়। সেখান থেকে শারমিন নামে এক ভাইঝিকে নিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন। শারমিনের উপস্থিতির খবর পেয়ে মরিয়ম স্বামীর বাড়িতে আসে। মনিরের সাথে শারমিনের বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে সংসারে অসোন্তষের সৃষ্টি হয়। অভিযোগে মরিয়মের বাবা জানান, গত ১৪ অক্টোবর রাত ১১ টার দিকে একটি অজ্ঞাত ফোন থেকে জানতে পারেন তার মেয়ে মরিয়ম বিষপান অবস্থায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এখবর জানার সাথে সাথে মরিয়মের পিতা সুলতান মিয়া বড় মেয়ে ফাতেমা বেগমকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যান। এসময় মরিয়ম জানায়, মনিরের সাথে তার মামাত বোনের বিয়ে হয়েছে। এখবর জানার পর রাতে স্বামী ও শ্বাশুরীর কাছে জানতে চাইলে তারা মরিয়মকে অকথ্য নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে মরিয়ম পানি চাইলে স্বামী ও শ্বাশুরী শরবতের সাথে বিষ মিশিয়ে পান করায়। সে নিস্তেজ হয়ে পড়লে তারা তাকে বাড়ির পুকুরের পানিতে ফেলে দেয় বলে মরিয়ম তার বাবার কাছে জানায়।
পওে স্থানীয়রা মরিয়মকে পানি থেকে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সেখান থেকে দ্রুত মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর শুক্রবার ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন মরিয়ম। শুক্রবার দুপুরে মরিয়মের অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে প্রেরণ করেন। পরদিন শনিবার ভোর রাতে মরিয়ম সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
মরিয়মের দরিদ্র পিতা সুলতান মিয়া বলেন, ’৩ মাস হলো না আমার মেয়েটির বিয়ে দিলাম। এরি মধ্যে ওরা মেয়েটাকে বিষ দিয়ে হত্যা করলো। আমি এর উচিত বিচার চাই’।
এবিষয়ে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও মনির ফোন ধরেননি। পরে তাঁর মা মনি বগেম ফোন রিসিভ করেন। তিঁনি বলেন, আমার ভাইঝি শারমিন নোয়াখালি থেকে বাসায় বেড়াতে আসে। ভাইঝির আসার খবর জানতে পেরে মরিয়ম বাপের বাড়ি থেকে ছুটে আসে। এনিয়ে ঝগড়া বিবাদের এক পর্যায়ে মরিয়ম অভিমান করে বিষ খেয়ে পুকুরে ঝাঁপ দেয়। মনি বেগম জানান, আমি সৌদি থাকি। ছেলে কবে বিয়ে করেছে আমি এর কিছুই জানিনা।
এদিকে এই ঘটনার শুরু থেকে ধামাচাপা দিতে একজন শ্রমিক নেতাসহ কতিপয় ব্যক্তির তৎপরতা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই তৎপরতার সাথে সংশ্লিষ্ট একজন নজরুল ইসলাম যিনি বিয়ের কাবিনের মরিয়মের পক্ষের ২নং স্বাক্ষী- বিপোর্ট না করার অনুরোধ করে বলেন ‘রিপোর্ট করে আর কি হবে। তিনি বলেন, মরিয়মের পরিবার খুবই দরিদ্র। আপোষ মিমাংসার মাধ্যমে এটা শেষ হলে তাদেরই লাভ হবে’।
তবে মরিয়মের বড় বোন ফাতেমা বেগম বলেন, টাকা পয়সার লোভে তারা ধোঁকা দিয়ে আমার বোনকে দেশে আনিয়ে বিয়ে করেছিল। বিয়ের পর তার সব টাকা পয়সা স্বামী শ্বশুরী খালা শ্বশুরীরা মিলে আত্মসাৎ করে। ফাতেমা বেগম বলেন, আমি আমার ছোট বোনের হত্যার ন্যায় বিচার চাই।
আশিদ্রোন ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সদস্য আরজু মিয়া বলেন, টাকা পয়সার লোভেই মেয়েটাকে সৌদি থেকে আনিয়ে ধোকা দিয়ে বিয়ে করেছে। পরে স্বামী মনির তার মায়ের প্ররোচনায় আত্মিয়ের মাঝে আরেক মেয়েকে বিয়ে করে- এধরনের অভিযোগ নিয়ে মেয়েটি আমার কাছে একবার এসেছিল’।
এদিকে এই ঘটনায় রাতেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত এফআইআর হিসেবে গ্রহন করা হয়নি।

শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুছ ছালেক বলেন, ‘আপাতত অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। এটা আত্মহত্যা না কি বিষ প্রয়োগে হত্যা তা নিরূপনের চেষ্টা চলছে। এ জন্য মরদেহের ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি। রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তি ব্যবস্থা নেয়া হবে’।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১ 

ফলো করুন 24todaynews.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
প্রভাষক আফাজুর রহমান চৌধুরী
অফিস