রাজনগরে বিদ্যালয় নিয়ে উত্তেজনা, ৫ দিন ধরে চলছে ১৪৪ ধারা

সোমবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১২:০৪ অপরাহ্ণ | 90

রাজনগরে বিদ্যালয় নিয়ে উত্তেজনা, ৫ দিন ধরে চলছে ১৪৪ ধারা

মৌলভীবাজারের রাজনগরে বিদ্যালয়ের নামকরণ নিয়ে বিবদমান দুই পক্ষের উত্তেজনার প্রেক্ষিতে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। এনিয়ে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে ১৪৪ ধারা বিদ্যালয়ের আশপাশ এলাকায় জারি থাকায় বিদ্যালয়ে পাঠ দান বন্ধ রয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। ঘটনাটি উপজেলার টেংরা ইউনিয়নে।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে উপজেলার টেংরা বাজারে অব্যবহৃত একটি আশ্রয় শিবিরে অস্থায়ীভাবে ‘টেংরা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ নামেই ওই আশ্রয় শিবিরে ২০১৯ শিক্ষা বর্ষের পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয় এবং ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত ২৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। পরবর্তীতে একই ইউনিয়নের শালন গ্রামের আমেরিকা প্রবাসী আরজান খান ভূমি দানের শর্তে ‘আরজান খান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়’ নামকরনের প্রস্তাব দেয়া হয়।

সে আলোকে বিদ্যালয়েল ম্যানেজিং কমিটির সভা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হলে আরজান খান বিদ্যালয়ের নামে ৭৫ শতাংশ জমি (৫০৫/১৯ নং দলিলে) ক্রয় করে দান করেন। পরে বিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড পরিবর্তন করে ‘আরজান খান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে লাগানো হয়। এদিকে বিদ্যালয়ের নাম পরির্তন নিয়ে এলাকায় পক্ষে বিপক্ষে দুটি গ্রুপ তৈরি হয়। নতুন নামের বিরোধীতা করে বিদ্যালয়ের আরজান খান নামের নতুন সাইনবোর্ড নামিয়ে দেয় একটি গ্রুপ। আবার একটি গ্রুপ ‘আরজান খান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়’ নাম থাকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুরসহ ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবীর অভিযোগ এনে বিদ্যালয় অবকাঠামো উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও ভুমি দাতা প্রবাসী আরজান খানের শ্বশুড় আবুল ফয়েজ ৭ এপ্রিল মৌলভীবাজার আদালতে পিটিশন (নং ১০৪/২০১৯) দায়ের করেন। এ মামলায় টেংরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান টিপু খান ও তার দুই ভাইসহ ৭ জনকে আসামী করা হয়। এঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে।

এদিকে নতুন জমিতে আমেরিকা প্রবাসী আরজান খান নিজস্ব অর্থায়নে ভবন তৈরি করে দিয়েছেন। সেখানে বিদ্যালয়ের কার্যক্রমও শুরু করেছেন। অপর দিকে ‘টেংরা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়’ নামের পক্ষের লোকজন আশ্রয় শিবিরে ওই নামে আরেকটি স্কুলের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নতুন ক্যম্পাসে আরজান খান উচ্চ বিদ্যালয় চালু হওয়ার পর সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ওই বিদ্যালয়ে চলে যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন যাবত উভয় পক্ষে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে উপজেলা প্রশাসন বিদ্যালয়ের আশপাশ এলাকায় অনির্দিষ্ট কালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে। এতে বন্ধ রয়েছে উভয় বিদ্যালয় ফলে লেখা-পড়ায় বিগ্ন ঘটছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসেম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরিস্তিতি শান্ত রয়েছে।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসি আক্তার বলেন, আজ আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হবে। এর পর থেকে ১৪৪ ধারা থাকবে না।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

Development by: webnewsdesign.com