মাধবকুন্ডে মাছসহ জলজপ্রাণীর মড়ক ঠেকাতে ঔষধ ছিটানো হচ্ছে

মঙ্গলবার, ০৫ নভেম্বর ২০১৯ | ৪:৩৪ অপরাহ্ণ | 63

মাধবকুন্ডে মাছসহ জলজপ্রাণীর মড়ক ঠেকাতে ঔষধ ছিটানো হচ্ছে

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের পানিতে মাছসহ অন্যান্য জলজপ্রাণীর মড়ক ঠেকাতে ও পানির গুণাগুণ স্বাভাবিক রাখতে ঔষধ ছিটানো হচ্ছে।

বড়লেখা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কুলাউড়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি মঙ্গলবার বলেন, মাছ ও জলজপ্রাণীর মড়ক ঠেকাতে এবং পানির গুণাগুণ রক্ষা করতে  আমরা জলপ্রপাতের পানিতে ঔষধ প্রয়োগ করেছি। পানির পিএইচ, দ্রুবিভূত অক্সিজেন, এমোনিয়া, হার্ডনেস, টিডিএস স্বাভাবিক আছে। আশা করছি, এখন থেকে আর মাছ মারা যাবে না। পানিতে রাসায়নিক জাতীয় বিষ পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, কেউ পাহাড়ি বিষলতা পানিতে প্রয়োগ করার কারণে মাছ ও জলজপ্রাণী মরেছে।’

তিনি বলেন, পানি ও মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হবে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে যাতে এরকম ঘটনা না ঘটে সেজন্য আমরা কিছু পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছি।

এদিকে এঘটনায় বন বিভাগের সহযোগী রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন রায় সোমবার বড়লেখা থানায় একটি জিডি করেছেন।

তিনি বলেন, এঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে।

বড়লেখা থানার ওসি ইয়াছিনুল হক জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকালে মাধবকুন্ড এলাকায় পর্যটক, পর্যটক পুলিশসহ স্থানীয় লোকজন মাধবকুন্ডের পানিতে মাছসহ বিভিন্ন ধরনের জলজ প্রাণী ভেসে ওঠতে দেখেন। এরমধ্যে ছিল পাহাড়ি বামাস মাছ, কাঁকড়া, পুঁটি, ব্যাঙ, পাহাড়ি চিংড়ি, পিপলা, ছোট বাইন, সরপুঁটিসহ বিভিন্ন ধরনের জলজ কীটপতঙ্গ। এতে জলপ্রপাত এলাকার বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। জলপ্রপাতের পানিতেও দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় লোকজনের ধারণা মারা যাওয়া বামাসের বয়স ১৫ থেকে ২০ বছর হতে পারে। স্থানীয় লোকজন ও মাধবকুন্ড ইকোপার্কের কর্মীরা মরা মাছ পানি থেকে তুলে সরিয়ে ফেলেন। গত শনিবার মারা যাওয়া মাছের সংখ্যা বেশি ছিল।

সোমবারও (৪ নভেম্বর) কিছু কাঁকড়া, বাইন, ব্যাঙ, পুঁটি, বিভিন্ন ধরনের জলজপ্রাণী পানিতে ভেসে থাকতে দেখা গেছে।

স্থানীয় লোকজন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, পাহাড়ি ছড়ায় অনেক ধরনের মাছ থাকে। মাছ ধরার জন্য মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের উপরের অংশে কেউ বিষ প্রয়োগ করতে পারে। উপর থেকে গড়িয়ে পড়া ঝর্নার পানিতে দুর্গন্ধ রয়েছে। এই পানি ছড়া দিয়ে গিয়ে হাকালুকি হাওরে পড়ছে। পানি বিষাক্ত হলে হাওরেও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। হাওরের মাছ মাছ মারা যেতে পারে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

Development by: webnewsdesign.com