শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩

Advertise with us
Advertise with us

ভারত আপত্তি করলে ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বুঝে পদক্ষেপ নেবে বাংলাদেশ

  |   বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ১৮৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ভারত আপত্তি করলে ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বুঝে পদক্ষেপ নেবে বাংলাদেশ

তিস্তা নদীর বাংলাদেশ অংশের উন্নয়ন প্রকল্পে চীনের কাজ নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আপত্তি তোলা হলে ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলী সাবরীন।

বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গত ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ‘বাংলাদেশে চীনের ভাবমূর্তি’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে কথা বলেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ থেকে তিস্তা নদীবিষয়ক কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব আমরা পেয়েছি। আসন্ন ৭ জানুয়ারির নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছি। তিস্তা নদীর উন্নয়নে চীন কাজ করতে আগ্রহী। আশা করছি, ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর তিস্তা প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারবো।

jagonews24মুখপাত্র সেহেলী সাবরীন

তার এ বক্তব্য বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সেহেলী সাবরীন বলেন, আপনারা জানেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নে তারা সহযোগিতা করে আসছে। তিস্তা নদীর বাংলাদেশ অংশের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে সহযোগিতা করার ব্যাপারেও চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়টি আমাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) যারা সাধারণত বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে কাজ করে, তারা বিবেচনা করে দেখবে।

চীন বলছে, জাতীয় নির্বাচনের পর তিস্তা প্রকল্পের কাজ শুরু করতে চায় তারা। কিন্তু চীন তিস্তার যে অংশে প্রকল্পের কাজ শুরু করতে চায় সেখান থেকে ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর খুব দূরে নয়। শিলিগুড়ি করিডোরকে ভারত ‘চিকেন্স নেক’ নামেও অভিহিত করে। দেশটি মনে করে তিস্তা নদীর উন্নয়নকাজের নামে চীন চিকেন্স নেককে নিজেদের কব্জায় নিতে চায়। এ কারণে ভারত চিকেনস নেকের সামনে চীনের উপস্থিতি দেখতে চায় না।

এক্ষেত্রে তিস্তায় চীনের কাজ নিয়ে ভারত আপত্তি তুললে তা কতটুকু আমলে নেবে বাংলাদেশ, এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ মুখপাত্র বলেন, আসলে পুরো প্রশ্নটি অনুমাননির্ভর। এমন অনুমাননির্ভর প্রশ্নের জবাব দেওয়াও সহজ নয়। তবে এরকম কোনো প্রস্তাব বা আপত্তি ভারতের পক্ষ থেকে এলে, তখন ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের বিষয়টি আমরা বিবেচনা করবো। সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো

প্রস্তাবিত তিস্তা উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ভাটি থেকে তিস্তা-যমুনার মিলনস্থল পর্যন্ত নদীর প্রস্থ কমিয়ে ৭০০ থেকে ১০০০ মিটারে সীমাবদ্ধ করা হবে। যেখানে নদীর গভীরতা বাড়নো হবে ১০ মিটার। এছাড়া নদীশাসনের মাধ্যমে তিস্তার সঠিক ব্যবস্থাপনা, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, নদীর উভয় পাড়ে বাঁধ মেরামত ও প্রায় একশো কিলোমিটারের বেশি নতুন বাঁধ নির্মাণের বিষয়গুলো রয়েছে। এ প্রকল্পে অর্থায়ন করবে চীন।

‘তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন’ নামের এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে চুক্তি হলেও পরবর্তীকালে তা অগ্রগতির মুখ দেখেনি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০ 

ফলো করুন 24todaynews.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
প্রভাষক আফাজুর রহমান চৌধুরী
অফিস