মঙ্গলবার ১৬ জুন, ২০২৬ | ২ আষাঢ়, ১৪৩৩

Advertise with us
Advertise with us

দীঘিনালায় অর্থ উপার্জনের মূল অবলম্বন এখন পান চাষ

দীঘিনালা উপজেলা প্রতিনিধি   |   শুক্রবার, ১৬ আগস্ট ২০১৯   |   প্রিন্ট   |   ৮৭১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

দীঘিনালায় অর্থ উপার্জনের মূল অবলম্বন এখন পান চাষ

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দীঘিনালা উপজেলা সদর ইউনিয়নের (২নং বোয়ালখালী) তেভাংছড়া ও বটতলী গ্রামের পরিবারগুলো পান চাষে স্বনির্ভর হয়ে উঠেছেন। তাদের অর্থ উপার্জনের মূল অবলম্বন এখন পান চাষ।

উপজেলা সদর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে উত্তরে অবস্থিত বটতলী ও তেভাংছড়া গ্রাম। এই দুই গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মাইনী নদী। মাইনী নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে যেদিকে চোখ যায় সেদিকে পানের বরজ। বটতলী ও তেভাংছড়া দুই গ্রামে প্রায় ২০০ পরিবারের বসবাস। তার মধ্যে প্রায় ৩৫০টি পানের বরজ রয়েছে।

অনেকেই একসঙ্গে ২/৩টি পানের বরজ করে থাকেন। যাদের নিজস্ব জমিজমা নেই, তারা অন্যের জমি বর্গা নিয়ে পান চাষে নেমে পড়েন। অনেক বছর ধরে এই দুই গ্রামে পান চাষ হয়ে আসছে। বর্তমানেও পান চাষের কোন কমতি নেই। বরং আরও বেশি পান চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে।

গ্রামের কৃষকেরা জানান, দীঘিনালায় সাপ্তাহিক বড় বাজার বসে মঙ্গলবার ও শনিবার। সে হিসেব অনুযায়ী, বাজারের দুইদিন আগে রোববার ও বৃহস্পতিবারে বরজ থেকে পান তোলা হয়। তার পরের দিনে পরিবারের সদস্যরা মিলে পান বাছাই করেন। অনেক সময় তাদের বাজারে যেতে হয় না। পান ব্যবসায়ীরা বাড়িতে এসে পান নিয়ে যান। স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী ছাড়াও অনেক সময় ফটিকছড়ি, নাজিরহাট, মাটিরাঙা, রাঙ্গামাটি, লংগদু থেকে এখানে এসে পান কিনে নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা।

পানের দাম বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষকেরা জানান, কোন সিজনে পানের দাম বেশি আর কোন সিজনে পানের দাম কম, তা সঠিক বলা যায় না। গত বছরে বড় আকারের পান এক বিড়া (৮০টি) ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তারপরে মধ্যম আকারের পান ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। আর সবচেয়ে ছোট আকারের পান ৪০ থেকে ৫০ টাকা বিক্রি হয়েছে। তবে এই বছর বন্যায় সমতলে পান চাষিদের পানক্ষেত নষ্ট হয়েছে। তবে স্থানীয় বাজারে পানের দাম আশানুরূপ হবে বলে ধারণা তাদের।

পান চাষে খরচের বিষয়ে কৃষকেরা জানান, আসলে পান চাষ যতোটুকু সহজ মনে করা হয়, ততটুকু সহজ নয়। পানের চারা প্রতি পিস ২ থেকে ৩ টাকা কিনতে হয়। এছাড়াও পান বরজে বাঁশের প্রয়োজন। বাঁশ প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা কিনতে হয়। একটা পান বরজে প্রায় ১০০ এর বেশি বাঁশ লাগে। তাছাড়া শ্রমিকের প্রয়োজন পড়ে। একজন শ্রমিককে দৈনিক ৩০০ টাকা দিতে হয়। এভাবে ৫ থেকে ৬ হাজার পানের চারা দিয়ে পান বরজ করলে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। যদি পান বরজ বড় হয়, তাহলে খরচও বাড়বে।

এসব বিষয়ে কথা হয় কয়েকজন পান চাষির সঙ্গে। তেভাংছড়া গ্রামের পান চাষী বিনয় চাকমা বলেন, ‘আমরা অনেক বছর ধরে পান চাষ করে আসছি। এই বছর ১৭ হাজার পানের চারা রোপন করেছি। বটতলী ও তেভাংছড়া দুই গ্রামে ২০০ পরিবারের অধিক বসবাস। তাদের প্রায় ৩৫০ পানের বরজ রয়েছে। অনেকেই একসঙ্গে ২/৩ টি পানের বরজ করে থাকেন। আর তেভাংছড়া গ্রামের পান চাষিরা নিজ গ্রাম ছাড়া অন্য গ্রামে গিয়েও পান চাষ করছেন।’

এক ছেলে, স্বামী ও স্ত্রী নিয়ে পরিবারের সদস্য তিনজন। পান চাষে সংসার চলে সোনাময় চাকমার। তিনি বলেন, ‘আমি গত কয়েকবছর ধরে পান চাষ করে আসছি। পান চাষে ভালো ফলনও পেয়েছি। সংসার ভালোই চলছে। গত বছর ৫ হাজার পান চারা চাষে যত খরচ হয়েছে তার দ্বিগুণ লাভ পেয়েছি।’

বটতলী গ্রামের পান চাষী ও সাবেক ২নং বোয়ালখালী ইউপি ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার সানন্ত বিকাশ চাকমা বলেন, ‘আমি পান চাষ শুরু করি ২০১৪ সালে। সেই বছর বেশ ভালো ফলনও পেয়েছি। তার ধারাবিকতায় বর্তমানেও পান চাষ করছি। এই বছর ২টা পানের বরজ করেছি। দুইটাতে ১৫ হাজার পানের চারা রোপন করেছি। দুইটা পান বরজে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। যদি ভালো ফলন পাই দুইটা পান বরজ থেকে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার পান বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 

ফলো করুন 24todaynews.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
প্রভাষক আফাজুর রহমান চৌধুরী
অফিস