ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতার বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশনে তরুণী

বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১:০৫ পিএম | 89

ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতার বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশনে তরুণী

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি সাজেদুল ইসলাম সজলের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন এক তরুণী। গত ১০ দিন ধরে অনশনে রয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, ওই তরুণী অনশন শুরুর পর বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন সাজেদুল। এর আগে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠায় তাকে বহিষ্কার করে জেলা ছাত্রলীগ।



সরেজমিনে গিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা সজল তাস সঙ্গে কয়েকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন। পরে বিয়ের কথা বললেও তিনি রাজি হননি। এ কারণে তিনি সজলের বাড়িতে এসে অনশন শুরু করেছেন। যদি সজল তাকে বিয়ে না করেন, তাহলে আত্মহত্যা করবেন ওই তরুণী।

অনশনে থাকা তরুণী জানান, এর আগে ধর্ষণের অভিযোগ এনে সজলের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেন। ওই মামলায় তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। কিন্তু যেদিন সজল জামিনে মুক্তি পান, সেদিন তার বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেন তরুণী।

ওই তরুণী বলেন, ‘বিয়ে করতে বলায় সজল রাজি না হওয়ায় আমি মামলা করেছি। কিন্তু বিয়ে না করে জামিন পেয়ে পালিয়ে গেছেন তিনি।’

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সজলকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে সজলের বাবা হামিদুল ইসলাম ওই তরুণীর অবস্থানের কথা নিশ্চিত করে বলেন, ‘গত ৩১ আগস্ট থেকে আমার বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে ওই মেয়েটি। আমরা যা করার করছি।’

এদিকে ওই তরুণীর পরিবারের দিকে অভিযোগ তুলে সজলের মা সাহেরা বানু জানান, তার ছেলের সঙ্গে ওই তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক সত্য। গত ২৪ জুন তরুণীর পরিবার সজলকে ধরে নিয়ে যায়। সেখানে তার ছেলেকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে তারা। সজল রাজি না হওয়ায় তারা ২৬ জুন সজলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করে।

সাহেরা বানু আরও জানান, ধর্ষণ মামলায় সজল ৬১ দিন কারাগারে ছিল। উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে গত ৩১ আগস্ট বাড়ি ফেরে সজল। এর কিছুক্ষণ পর ওই তরুণী তাদের বাড়ি আসে। তখন থেকেই অনশন করছে সে।

এদিকে তরুণী বাড়ি এসে অনশন শুরুর পর সজল কেন পালিয়ে গেল, এই কথার উত্তর দিতে পারেননি তার বাবা-মা।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার পারভেজ পুলক বলেন, ‘সাজেদুল ইসলাম সজল এখন আর ছাত্রলীগের কেউ না। ধর্ষণের ঘটনায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাংগঠনিকভাবে তাকে দলীয় পদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও রুহিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার রায় বলেন, ‘দুই পরিবারের মাধ্যমে বিষয়টি সমঝোতার প্রক্রিয়া চলছে। ধর্ষণ মামলায় দায়ের করার পরও স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন আমরা হাতে পাইনি। ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

Development by: webnewsdesign.com