কুলাউড়ায় বিদ্যুতের সুবিধা থেকে বঞ্ছিত ৩ পুঞ্জিবাসী

খুঁটি দেখে ২ বছর পার!

সোমবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২১ | ১০:০৭ অপরাহ্ণ | 291

খুঁটি দেখে ২ বছর পার!

আব্দুল কুদ্দুস, কুলাউড়া: “শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ” মুজিববর্ষে এমন স্লোগান ধারণ করে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে বিদ্যুতের গ্রাহকরা কাঙ্খিত সেবা পেলেও এখন পর্যন্ত আলো দেখতে পায়নি কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নের তিনটি পান পুঞ্জির অন্তত ৫শ’ পরিবারের লোক। ওই তিন পুঞ্জির লোকজন প্রতিদিন সকালে ঘুম ভেঙ্গে ঘর থেকে বের হলেই চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পল্লীবিদ্যুতের খুঁিটই দেখতে পায়। উঠানে দাঁড়িয়ে থাকা খুঁটিগুলো ২ বছর ধরে দেখে আসলেও কখন যে লাইন টানা হবে তা তারা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। আদৌ বিদ্যুতের লাইন টানা হবে কি-না তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান রয়েছেন। ২০১৯ সালের প্রথমদিকে খুঁটি স্থাপনের পর বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা শুনে অনেকেই ঘরের ওয়ারিং করে রেখেছেন। কিন্তু বিদ্যুতের আলো তো দূরের কথা আজও দুটি পুঞ্জি এলাকায় লাইন টানা হয়নি। ফলে বিদ্যুতের আলো থেকে বঞ্ছিত এই দুই পুঞ্জির অধিবাসীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের আছকরাবাদ বাগানের উপর দিয়ে নোনছড়া পুঞ্জি পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার পল্লীবিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। অনেক স্থানে খুঁটিতে লাইন টানার জন্য ক্রসআর্ম ও ইন্সুলেটর রাখা হয়েছে। বিদ্যুতের আশায় নোনছড়া ও পুঁটিছড়া পুঞ্জিতে কেউ কেউ ঘরে ওয়ারিং করে রেখে দিয়েছে। অনেকেই ব্যবহারের জন্য বাড়িতে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য সংগ্রহ করে রেখেছে। পুঞ্জির নিচে কূপ থেকে খাবার পানি এবং গোসলসহ অন্যান্য কাজে ব্যবহারের জন্য সেচপাম্প দিয়ে পানি উঠানো হচ্ছে। বেশীর ভাগ বাড়ী-ঘরে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে স্কুল কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ না থাকায় কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছেনা।



পুঞ্জির বাসিন্দারা জানায়, নোনছড়া ও পুঁটিছড়া পুঞ্জিতে আজ থেকে প্রায় ২ বছর আগে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন লাইন টানা হয় নাই। স্থানীয়রা জানান, নোনছড়া, পুঁটিছড়া ও বেগুনছড়া পুঞ্জিতে অন্তত ৫শ’ পরিবারের কয়েক হাজার লোকের বসবাস রয়েছে। তবে নোনছড়া ও পুঁটিছড়া পুঞ্জিতে খুঁটি স্থাপন করা হলেও বেগুনছড়া পুঞ্জিতে এখন পর্যন্ত বিদ্যুতের খুঁটিই পৌঁছেনি। ফলে বিদ্যুতের আলো আদৌ তাদের ভাগ্যে ঝুটবে কি-না তারা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। প্রায় দুই বছর আগে পুঞ্জির পাহাড়ী এলাকার উপরে হাতির মাধ্যমে বিদ্যুতের খুঁটি তোলা হয়।
আদিবাসীরা জানান, শেখ হাসিনার সরকার সব এলাকায় বিদ্যুতের সেবা পৌঁছে দিলেও শুধু আমাদের এই তিন পুঞ্জিতে পৌঁছেনি। এখানে ডিজেল চালিত সেচ পাম্প দিয়ে পুঞ্জির নিচের কূয়া থেকে পানি উঠানো হয়। যা অনেক ব্যয়বহুল হয়। বিদ্যুতের সুবিধা থাকলে পানির সমস্যা হতো না। বিদ্যুৎ লাইনটি চালু হলে হাজার হাজার মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে পল্লীবিদ্যুৎ মৌলভীবাজারের জেনারেল ম্যানেজার মো. জিয়াউর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি জরুরী মিটিংয়ে রয়েছেন বলে ফোন কেটে দেন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

Development by: webnewsdesign.com