কুলাউড়া শহর যেন জনশূন্য ভূমি, ঘরে-বাইরে সবখানে আতঙ্ক!

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২০ | ৭:৩৪ অপরাহ্ণ | 241

কুলাউড়া শহর যেন জনশূন্য ভূমি, ঘরে-বাইরে সবখানে আতঙ্ক!

আতঙ্ক হলো প্রাণঘাতী মহামারি করোনাভাইরাস। বীর দর্পে মাথা উঁচু করে চলতে অভ্যস্ত বাঙালি প্রথমে করোনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করলেও এখন বিশ্ববাসীর সঙ্গে বাঙালিও অনেকটা মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছে। তাই তো আতঙ্কিত মনে নিজ গৃহকেই অনেকটা নিরাপদ ভাবছেন মানুষ। যার প্রমাণ মিলেছে নীরব নিস্তব্ধ আর জনশূন্য কুলাউড়া শহরের দৃশ্য দেখে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, কুলাউড়া উপজেলার দোকানপাট সব বন্ধ, বন্ধ গণপরিবহন, নেই চিরচেনা শহরের জনসমাগম। এমন পরিস্থিতিতে নীরব, নিস্তব্ধ হয়ে উঠেছে পুরো উপজেলা।



খুব প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলে অনেকটা আতঙ্ক নিয়ে কাজ শেষ করেই ঘরে ঢুকছেন লোকজন। গাড়ি চলাচলও নেই তেমন। শহর যেন জনশূন্য ভূমি, ঘরে-বাইরে সবখানে আতঙ্ক।

উপজেলার অধিকাংশ জায়গা ঘুরে দেখা গেছে কোথাও নেই জনসমাগম। জনসমাগম তো নেই, সেই সাথে অধিকাংশ জায়গায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দোকানপাটও বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। সবজির বাজার, মাছের বাজারেও বিক্রেতা ও ক্রেতার সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকজন। সব মিলিয়ে স্বেচ্ছায় যেন সকলের গৃহবাস।কুলাউড়া উত্তর বাজার জামে মসজিদসহ শহরের কয়েকটি মসজিদে মুসল্লিরা দুরুত্ব বজায় রেখে নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে।

এদিকে করোনা আক্রান্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের খাবার বা আর্থিক সহায়তা দিলেও বাংলাদেশে এরকম কিছু এখনো শুরু হয়নি। তাই দারিদ্রসীমার নীচে অবস্থানকারী বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই খেটে খাওয়া ও দিনমজুর হওয়ায় এসব মানুষকে পড়তে হচ্ছে বিপাকে। তাই তো মহামারী করোনার ভয়কেও যেন জয় করছে খেটে খাওয়া মানুষের অভাব। পরিবারের সদস্যদের মুখে দু’মুঠো ভাত তুলে দিতে রিকশা, ভ্যান, সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে বের হচ্ছেন অনেক চালক। তবে তারা বের হলেও মানুষ না থাকায় সড়কে যেন একাই পায়চারী করছেন।

গতকাল থেকে  মৌলভীবাজার জেলার সবকটি উপজেলায় টহলে নেমেছে সেনাবাহিনী।বৃহস্পতিবার সকাল থেকে  সেনাবাহিনীকে টহল দিতে ও বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে ঘর থেকে বের না হতে পরামর্শ দিতে দেখা যায়। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় সামাজিক সঙ্গ নিরোধ এবং হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে আজ টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী।

সব এলাকায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর লক্ষ্যে সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে প্রশাসনকে সহায়তায করছেন সেনা সদস্যরা। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে তারা জেলা ও বিভাগীয় করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করবেন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

Development by: webnewsdesign.com