পর্যটন শিল্পের উন্নয়নঃএকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা

কুলাউড়ায় দেশের ৬৫ তম জেলা হলে বাড়বে পর্যটকদের সুবিধা আর রাজস্ব আয়

সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৯ | ১১:৫১ অপরাহ্ণ | 184

কুলাউড়ায় দেশের ৬৫ তম জেলা হলে বাড়বে পর্যটকদের সুবিধা আর রাজস্ব আয়

বর্তমান সরকার পর্যটন খাতে আয় বাড়াতে চায়। এ নিয়ে চলছে নানামুখী কর্মতৎপরতা। মন্ত্রী সচিবসহ বিভাগীয় কর্মকর্তাগণ দেশের আনাচেকানাচে গিয়ে বিশিষ্টজনের মতামত নিচ্ছেন। চলছে মতবিনিময় পরামর্শ সভা আর নানা পরামর্শ।

এ বিষয়ে শুক্রবার ২৫ অক্টোবর মৌলভীবাজারেও এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, সচিব, পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সময় সল্পতায় বিজ্ঞ নাগরিকদের অনেকেই এ বিষয়ে তাদের মুল্যবান মতামত ব্যক্ত করতে পারেননি। আমি নিজেও প্রায় ১০ মিনিট বলেছি। কিন্তু মনের মধ্যে এ বিষয়ে জমাট বাধা কথামালার এক দশমাংশও বলতে পারিনি। যেহেতু অনুষ্ঠানে বলা হয়েছে এ বিষয়ে প্রয়োজনে লিখিত পরামর্শও দেয়া যাবে। তাই আমি গণমাধ্যমের সাংবাদিক বন্ধুগন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই আমার অসমাপ্ত মতামত তুলে ধরতে চাই।

পর্যটকদের জন্য যেমন আকর্ষণীয় স্পষ্ট দরকার ঠিক তেমনি প্রয়োজন হয় সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা, মানসম্মত খাবার ও আবাসিক ব্যবস্থা, নিরাপত্তা আর গাইডলাইন। আমি মনে করি হাকালুকি হাওর, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, মাধবপুর লেক, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, শমসের নগর বিমান ঘাটি, অসংখ্য চা-বাগান, আদিবাসী পল্লী, সীমান্ত এলাকা, নদী-নালা সবই দেশের পূর্বাঞ্চলে। তাই সেই এলাকার কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, জুড়ি ও বড়লেখা উপজেলা নিয়ে আরো একটি পৃথক জেলা তথা দেশের ৬৫ তম জেলা করা যেতে পারে।

যে জেলায় ৪ উপজেলা, ৩ পৌরসভা, ৩৮টি ইউনিয়ন, ৫ টি বড় নদ-নদী, অর্ধ শতাধিক চা- বাগান, হাকালুকি হাওর, কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন, কালা পাহাড় পর্বতশৃঙ্গ, বিমান ঘাটি সবই আছে। জনসংখ্যা হবে প্রায় ১১ লাখ, আর আয়তন হবে ১৬৪৩.৯৭ বর্গকিলোমিটার। তিনটি সংসদীয় আসন হবে নতুন এই জেলায়। প্রস্তাবিত জেলার নাম হতে পারে হাকালুকি/মাধবকুন্ড / মনু অথবা গ্রহণযোগ্য যেকোন একটি।

আর নতুন এই জেলা হলে পর্যটকদের যেমন আকর্ষণ আর এ খাতের আয় বাড়বে ঠিক তেমনি অবহেলিত পূর্বাঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন আর পরিবর্তন হবে। জেলার হেডকোয়ার্টার হবে কুলাউড়া বা এর আশপাশে যেখান থেকে মৌলভীবাজার, কমলগঞ্জ, বড়লেখাসহ পর্যটন স্পষ্টগুলোতে যাওয়া যাবে মাত্র এক ঘন্টার মধ্যে।

এতে পর্যটকদের যাতায়াত ব্যয় কমে যাবে অর্ধেক। দেশের যেকোন এলাকা থেকে ট্রেনে অথবা সড়ক পথে আসতে পারবেন পর্যটকেরা। জেলা সদর হলে নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ভৌত অবকাঠামো গড়ে উঠবে। ফলে পর্যটকদের আবাসিক সমস্যার সমাধান হবে।

এই প্রস্তাবনার বিষয়ে আমি গণমাধ্যমের বন্ধুগন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

লেখক :
চেয়ারম্যান, ১০ নং হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ
কুলাউড়া, মৌলভীবাজার।
সাবেক জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক সকালের খবর
সাবেক বার্তা সম্পাদক, দৈনিক শ্যামল সিলেট

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

Development by: webnewsdesign.com