শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬ | ৩১ শ্রাবণ, ১৪৩৩

Advertise with us
আপডেট
চা-শ্রমিকের মজুরি ৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান, ৫০০ টাকা করার দাবিতে বিক্ষোভ সাত্তার ও সুরাইয়া দম্পতির জানাযায় ঢল, প্রবাস থেকে এসে অংশ নিলেন ছেলে জিয়া, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের রাজনীতি নিয়ে যা বললেন রুমিন আগামী সপ্তাহেই দিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী কাঠমান্ডুর বাংলাদেশ হাউসে মধ্যাহ্নভোজ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত বৃহস্পতিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক, চূড়ান্ত হবে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি আপনার চরিত্র নির্ধারণ করে না : প্রভা ভারত সিরিজ নিয়ে এখনও আশাবাদী বিসিবি চার সন্তান বিদেশে, নিজ ঘরে গৃহকর্মীসহ ব্যবসায়ী দম্পতি খুন রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ মার্কেট-শপিংমল, ৭টায় নেভাতে হবে আলোকিত বিলবোর্ড
Advertise with us

সাত্তার ও সুরাইয়া দম্পতির জানাযায় ঢল, প্রবাস থেকে এসে অংশ নিলেন ছেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

সাত্তার ও সুরাইয়া দম্পতির জানাযায় ঢল, প্রবাস থেকে এসে অংশ নিলেন ছেলে

খুন হওয়া সিলেটের প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগম দম্পতির জানাযা সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার বাদ আসর সিলেট নগরের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে এই দম্পতির জানাযা সম্পন্ন হয়। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

জানাযায় যুক্তরাজ্য থেকে এসে অংশ নেন এই দম্পতির একমাত্র ছেলে আরিফ ইফতেখার। শুক্রবারই তিনি দেশে আসেন।

জানাযার পূর্বে মুসল্লীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার বাবা যদি কোন ভুল করেন আপনারা ক্ষমা করে দেবেন। আর কেউ তার কাছে টাকা পয়সা পেয়ে থাকলে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন।

এরপর পাশপাশি খাটিয়ায় মরদেহ রেখে একসাথে এই দম্পতির জানাযা সম্পন্ন হয়। তার আগে বিকেলে দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের মরদেহ রায়নগরের বাসা থেকে ঈদগাহ ময়দানে আনা হয়।

জানাযা শেষে দাফনের জন্য তাদের মরদেহ নয়াসড়কস্থ হযরত মানিক পীর (রহ.) মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয় ।

দাফন ও জানাযায় অংশ নিতে যুক্তরাজ্য থেকে এই দম্পতির একমাত্র ছেলে ও এক মেয়ে আজ দেশে ফিরেন। এরআগে বৃহস্পতিবার দেশ ফিরেন দুই মেয়ে।

দাফনর পর এই হত্যাকান্ডর ঘটনায় নিহত দম্পতির ছেলে আজ থানায় মামলা করবেন বলে জানা গেছে।

এর আগে বুধবার সকালে রায়নগরে নিজেদের বাসা থেকে আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও তাদের কাজের মেয়ে তাহমিনার (১৮) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

গৃহকর্মী তাহমিনার জানাযা ও বৃহস্পতিবারই সুনামগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে সম্পন্ন হয়।

আর বৃহস্পতিবার দেশে ফিরে আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগম দম্পতির মেয়েরা ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে বাবা-মায়ের মরদেহ গ্রহণ করেন।

নিহত আব্দুস সাত্তারের চার সন্তানের সবাই প্রবাসে বসবাস করেন। তাদের মধ্যে দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে এবং এক মেয়ে ও একমাত্র ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার সকালে রায়নগরের মিতালী এলাকার একটি বাসায় ঘটে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ঘটনার চার ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ রহস্য উদঘাটনের দাবি করে। জিজ্ঞাসাবাদে গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের প্রেমিক বাবুল মিয়া একাই তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সকালে তাহমিনার সম্মতিতে বাবুল বাসায় প্রবেশ করে। পরে অনৈতিক প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বিরোধ বাধে। একপর্যায়ে বাবুল ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে হত্যা করে। তাহমিনার চিৎকারে এগিয়ে আসা গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং পরে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তারকেও একইভাবে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায় এবং কাছের একটি ঝোপে ছুরিটি ফেলে দেয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজের সহায়তায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয় এবং ঝোপঝাড় থেকে ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ।

বুধবার সন্ধ্যায় বাবুল মিয়াকে আটকের পর সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেছিলেন, বাবুল মিয়া ওই বাসার রংমিস্ত্রির কাজ করত, মাঝে মাঝে কসাইয়ের কাজও করত। ওই বাসার গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে বাবুল ওই বাসায় গিয়ে গৃহকর্মীকে নিয়ে একটি কক্ষে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে একপর্যায়ে বাবুল ছুরি দিয়ে মেয়েটিকে আঘাত করে।

তিনি বলেন, শব্দ পেয়ে আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। তাদের চিৎকার শুনে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার এগিয়ে আসেন। তখন তাকেও ছুরি মেরে হত্যা করে বাবুল। পরে সে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায়।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১ 

ফলো করুন 24todaynews.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
প্রভাষক আফাজুর রহমান চৌধুরী
অফিস