
নিউজ ডেস্ক | শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | প্রিন্ট | ৬৯৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

পেঁয়াজ চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, জাতীয় ন্যূনতম মজুরী ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ, জনগণের ভোটাধিকার, ভূমিহীন খেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় দখলমুক্তকরণ, রেল-সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করা, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের উপর জুলুম-নির্যাতন বন্ধ, ভারতের সাথে জাতীয় স্বার্থ বিরোধী অসমচুক্তি বাতিলসহ ১৭ দফা দাবিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পাটির (সিপিবি) ডাকে দেশব্যাপী পদযাত্রা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সিপিবি সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার উদ্যোগে পদযাত্রা কর্মসূচি পালিত হয়। বিকেল ৩টায় পঞ্চখণ্ড গোলাবিয়া পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে পথ সভার মাধ্যমে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিপিবি সিলেট জেলা কমিটির সভাপতি কমরডে হাবিবুল ইসলাম খোকা। সিপিবির নেতা-কর্মিবৃন্দসহ বিভিন্ন গণ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ লাল পতাকা এবং জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে পদযাত্রায় অংশ নেন। পদযাত্রা চলাকালে ১৭ দফা দাবি সংবলিত লিফলেট বিতরণের ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন স্থানে পথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসব পথ সভায় বক্তারা বলেন, দেশ আজ ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি। দেশের পরিস্থিতির উপর বর্তমানে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। পেঁয়াজ-চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি, অবাধ লুটপাট, চাঁদাবাজি, টেন্ডাবাজি, দুর্নীতি ও দুঃশাসনে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সিন্ডিকেট করে ক্ষমতাসীনদের অনুগতরা কৃত্রিমভাবে মূল্য বৃদ্ধি করে জনসাধারণের পকেট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিদেশে পাচার করছে। নারী ও শিশু নির্যাতন সকল মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের উপর জুলুম-নির্যাতন ও তাদের সহায়-সম্পত্তি দখলের ঘটনা থামছেই না। সড়ক ব্যবস্থাপনায় আর রেলে চলছে চরম অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি। যে কারণে রেলে ও সড়কে মৃত্যুর মিছিল ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে শিক্ষার মান ক্রমশ নিম্নগামী। লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক আজ হতাশায় হাবুডুবু খাচ্ছে। কিন্তু সব ব্যাপারেই সরকার নির্বিকার। তারা গদি রক্ষায় মরিয়া হয়ে উন্নয়নের নামে শুধু ফাঁকা বুলি আওড়াচ্ছে। এমন অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে লুটপাট-দুর্নীতি, গণতন্ত্র হীনতা ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এবং কমিউনিস্ট ঐক্য গড়ে তোলার মাধ্যমে শোষণ মুক্ত সাম্যবাদী সমাজব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে জোরালো আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য ছাত্র-যুব-জনতার প্রতি বক্তারা আহ্বান জানান।
এছাড়াও কৃষকদের সকল কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, খেতমজুরদের বছরব্যাপী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ ভূমিহীন গ্রামীণ মজুরদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু, সিলেট-আখাউড়া বিদ্যমান রেলপথ সংস্কার করে ডাবল লাইনে উন্নতকরণ, ডাক্তার নার্সসহ প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগদানের মাধ্যমে বিয়ানীবাজার হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নতকরণ, সিলেট-বিয়ানীবাজার সড়ক সংস্কার ও প্রশস্থকরণ, বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে নতুন নতুন বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু ও আসন সংখ্যা বৃদ্ধি, ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিয়ানীবাজার কলেজে বাস সার্ভিস চালু, সারাবছর খেলাধুলার সুবিধার্থে বিয়ানীবাজারে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং নতুন প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে একটি কম্পিউটার ইন্সটিটিউট স্থাপনের জন্য বক্তারা জোর দাবি জানান।
পথ সভাগুলোতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সিপিবি সিলেট জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমন, সিপিবি বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট আবুল কাসেম, সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান, সিপিবি শাহপরান থানা শাখার সম্পাদক তুহিন কান্তি ধর, সিপিবি বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি দয়াময় দত্ত, কুড়ারবাজার কলেজের প্রভাষক সিপিবি নেতা বিজিত আচার্য, সংবাদিক ও সিপিবি নেতা হাসান শাহরিয়ার, বিয়ানীবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর ও সিপিবি নেতা আকছার হোসেন, যুব নেতা মুজাহিদুল ইসলাম, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা নিজাম উদ্দিন আবুল, আব্দুর রহমান, উদীচীর সন্দ্বীপ দেব, মাসুম আহমদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাবিল এইচ, ছাত্র ইউনিয়ন বিয়ানীবাজার উপজেলা সংসদের সভাপতি ফারাজ আবির, সাধারণ সম্পাদক সুজন দাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইশতিয়াক হিমেল, সিলেট মহানগর সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক মনীষা ওয়াহিদ, ছাত্রনেতা মুহাইমিনুল ইসলাম মাহিন প্রমুখ।
