
নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেশিরভাগ চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে আসেন না। আবার দেরি করে এসেও নির্ধারিত সময়ের আগেই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান অনেকে। এতে সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।
হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর দুই বিভাগেই চিকিৎসকদের দেরি করে আসা ও আগেভাগে চলে যাওয়ার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে।
রোগীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় এমন অভিযোগ জানানো হচ্ছে। তবে এবার হাসপাতাল পরিচালকের একটি নোটিশেও উঠে এসেছে বিষয়টি। মঙ্গলবার (১ আগস্ট) ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চিকিৎসকদের জন্য হাসপাতালে প্রবেশের নির্ধারিত সময় সকাল ৮টা এবং প্রস্থানের দুপুর ২টা ৩০ মিনিট। তবে সাম্প্রতিক বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্য পর্যালোচনায় উপস্থিতি ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
বায়োমেট্রিক তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টার পর কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার হার বহির্বিভাগে ৪৮ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগে ৬৫ শতাংশ। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় সকাল ৮টার এক ঘণ্টা পরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত হচ্ছেন।
অন্যদিকে, নির্ধারিত সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের আগেই কর্মস্থল ত্যাগের প্রবণতাও বেশ বেশি। তথ্য অনুযায়ী, বহির্বিভাগের ৯৬ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৯০ শতাংশ চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, চিকিৎসাসেবা সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনা, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময় যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি।
এ কারণে বিজ্ঞপ্তিতে সব চিকিৎসককে সকাল ৮টায় যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক অ্যাটেনড্যান্সে উপস্থিতি নিশ্চিত এবং দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের আগে কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বিষয়টি আপাতত প্রাথমিক সতর্কীকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে একই ধরনের ব্যত্যয় পুনরায় পরিলক্ষিত হলে সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা অনুসরণ করে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে বুধবার ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
