মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আপনি যা নাও জানতে পারেন

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯ | ৭:০০ অপরাহ্ণ | 40

মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আপনি যা নাও জানতে পারেন

মাহমুদুর রহমান: মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ইতিহাসের সোনালী অধ্যায়। সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা ছিনিয়ে নিয়েছি স্বাধীনতা। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমরা অনেক কিছুই জানি আবার কিছু বিষয় আছে যে সম্পর্কে আমরা খুবই কম জানি। আসুন জেনে আসি এরকম কয়েকটি বিষয়।

প্রবাসী সরকারের চ্যালেঞ্জ: একাত্তরের এপ্রিলে কুষ্টিয়ার মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম বাগানে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার গঠিত হয়। যেহেতু একটি স্বাধীন দেশের সরকার থাকে, বাংলাদেশেরও সরকার থাকার প্রয়োজন ছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন নীতি নির্ধারক সিদ্ধান্তের জন্য সরকারের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কিন্তু দেশের ভেতরে তখন পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর জন্য তা সম্ভব ছিল না। তাই গঠিত সরকার কলকাতায় থেকে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতো বলে এর নাম প্রবাসী সরকার। কিন্তু বাংলাদেশের ভূখণ্ডে না থেকে কলকাতায় থাকার কারনে তাদের নামে নানা অপবাদ দেওয়া হয়। তাদেরকে ভারতের দালাল, সুবিধাভোগী প্রভৃতি কটুবাক্যে সম্বোধন করা হয়। অন্যদিকে প্রবাসী সরকারের নিজেদের মাঝেও ছিল নানা রকম দ্বিধা দ্বন্দ। এসবের মাঝেই কাজ করে চলেছিল সরকার। এবং ভারত সহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নানা রকম কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা, দেশের স্বীকৃতি, বঙ্গবন্ধুর মুক্তি প্রভৃতি নানা বিষয়ে কাজ করে চলেছিলেন তারা। মূলত অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ও দায়িত্ববোধের কারণে ঠিকঠাক চলেছিল এর কাজ। মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী সরকারের অবদান অনস্বীকার্য।

নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি গেরিলা বাহিনী: বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, পুলিশ, ইপিআর নিয়ে গঠিত নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি দেশের নানা অঞ্চলে ছোট বড় গেরিলা বাহিনী গড়ে উঠেছিল। মনে রাখতে হবে তখনকার বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আজকের মতো ভালো ছিল না। কেবল নিজের এলাকাই অনেকে ভালো করে চিনতো। ফলে নিয়মিত বাহিনীর চেয়ে গেরিলাদের নিজস্ব এলাকায় তৎপরতা চালানো সহজ ছিল। সেই সহজতা আর সাহসে ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, কাদের সিদ্দিকীর কাদেরিয়া বাহিনী, মোফাজ্জল হোসেনের মায়া বাহিনী, হেমায়েত বাহিনী, মুজিব বাহিনী। এসব গেরিলা দলের মধ্যে কাদের সিদ্দিকীর কাদেরিয়া বাহিনী ছিল পাকিস্তানিদের সবচেয়ে ভয়ের নাম। কাদের এবং তার দলবল নানা সময়ে দুঃসাহসিক অপারেশন করে পাকিস্তানিদের নাস্তানাবুদ করেছেন। কাদের সিদ্দিকী সে সময়ে টাইগার সিদ্দিকী নামে পরিচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে বঙ্গবন্ধুর কাছের কিছু ছাত্রনেতা একত্রিত হয়ে একটি বাহিনী গঠন করেন এবং নাম দেন ‘মুজিব বাহিনী’। নেতার নামে তৈরি এ বাহিনী ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। ফজলুল হোক মণি, তোফায়েল আহমেদ প্রমুখের সম্পৃক্ততায় তৈরি এ বাহিনীও মুক্তিযুদ্ধের আলোচনায় আসে কিন্তু তা সম্পর্কে বিস্তারিত আমরা কমই জানি।

নিক্সন-কিসিঞ্জারের ষড়যন্ত্র: আমেরিকা যে আমাদের স্বাধীনতার বিরোধী ছিল, সে কথা আজ আমরা প্রায় সবাই জানি। পাকিস্তানের এ বন্ধুরাষ্ট্র শুরু থেকেই ভারত বিরোধী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে নানা ভাবে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তারা এ প্রসঙ্গে ভেটো পর্যন্ত প্রয়োগ করেছিল। অথচ সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই বাংলাদেশের জন্য কনসার্ট করেছিলেন জর্জ হ্যারিসন। আমেরিকানরা বাংলাদেশের জন্য সহানুভুতি জানিয়েছিল। কোন অদ্ভুত কারণে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী কিসিঞ্জার, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোর বিরোধী ছিলেন। তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন পাকিস্তানকে সহায়তা করার। করেছেন নানা ষড়যন্ত্র। কিন্তু সে সুপার পাওয়ারের কোন ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা রুখতে পারেনি।

তথ্য সূত্র: ১.অলাতচক্র- আহমদ ছফা ২.আওয়ামী লীগঃ উত্থানপর্ব- মহিউদ্দিন আহমদ ৩.একাত্তরের দিনগুলি- জাহানারা ইমাম

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

Development by: webnewsdesign.com