ডেঙ্গু রোগীর সেবায় ঈদেও ছুটি নেই রক্তদানের স্বেচ্ছাসেবকদের

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯ | ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ | 37

ডেঙ্গু রোগীর সেবায় ঈদেও ছুটি নেই রক্তদানের স্বেচ্ছাসেবকদের

স্বেচ্ছাসেবক বলতে আমরা বুঝি স্বেচ্ছায় প্রণোদিত হয়ে বিনা বেতনে যে ব্যক্তি সেবা দান করে থাকেন। আর এই স্বেচ্ছাসেবকদের কোনো উৎসবেই যেন ছুটি নেই। প্রতিটি ঈদ, পূজাতে সবাই ছুটি কাটায় কিন্তু তখনও স্বেচ্ছাসেবকরা মানুষের কল্যাণে কাজ করে যান। এর মধ্যে রক্ত ম্যানেজ করে দেওয়া অন্যতম একটা কাজ।

যেকোনো উৎসবের কয়েকদিন আগে থেকেই বিভাগীয় শহরগুলা খালি হয়ে যায়। সেই সময় রক্তদাতা পাওয়া খুব কষ্টকর হয় কারণ ছুটিতে প্রায় সকল রক্তদাতাই গ্রামের বাড়িতে চলে যান। স্বাভাবিকভাবেই রক্তদাতা খুজে পেতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়ে রক্তদানের ভলান্টিয়ারদের। তবে এবারের ঈদ ছিল সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং কারণ এ সময়ই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ছিল ডেঙ্গুর মহামারি।

ডেঙ্গু রোগীর জন্য প্রতিদিন অসংখ্য রক্ত, প্লাটিলেট দরকার হচ্ছে, যার বেশীর ভাগ রক্তদাতা ম্যানেজ করে দিচ্ছেন বিভিন্ন জেলার স্বেচ্ছাসেবকরা। প্রতিদিন এতো রক্ত, প্লাটিলেট লাগছে যে স্বেচ্ছাসেবক রক্তদাতা খুঁজে দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
ডেঙ্গু রোগীদের সাহায্য করার লক্ষ্যে এবার ঈদে রক্তদানের কিছু স্বেচ্ছাসেবক একত্রিত হয়েছে তৈরি করেছে একটি টিম, ‘দেশের জন্য আমি প্রস্তুত’। একত্রিত হয়ে ডেঙ্গু রোগীসহ অন্যান্য রোগীদের জন্য রক্তদাতা খুঁজে দেয়ার চেষ্টা করেছে এই টিম। সবাই মিলে একসাথে চেষ্টা করে গেছে। এই টিমে কখনো সফল হয়েছে, আবার কখনো সফল হতে পারেনি। তবুও হাল ছেড়ে দেয়নি।

স্বেচ্ছাসেবক ‘ইসরাত জাহান’ এবার ঈদে বাড়িতে যাননি। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য প্রচুর রক্তের প্রয়োজন হচ্ছে এবং রক্তদাতা খুঁজে দিতে ঢাকা শহরেই থেকে গেছেন তিনি। ঈদের ছুটির পুরো সময় ডেঙ্গু রোগীদের রক্তদাতা খুঁজে দিয়েছেন। পরিশ্রম করেছেন দিন-রাত এক করে।

ঠিক তেমনি ‘মুজাহিদুল ইসলাম দূর্জয়’ গ্রামের বাড়িতে যাননি ডেঙ্গু রোগীকে সাহায্য করার জন্য।তাঁর ভাষায়, “ডেঙ্গু রোগীর কান্না সহ্য করতে পারি না। গ্রামের বাড়িতে গেলে ভলান্টারি কাজে সময় দিতে পারবো না, তাই ঢাকাতেই থেকে গেলাম রক্তদাতা খুঁজে দেয়ার জন্য। এবার মা বাবাকে রেখে ঢাকায় একাকি ঈদ পালন করেছি।“

স্বেচ্ছাসেবক ‘দীপা’ নিজেও ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত, কিন্তু এর মাঝেও তিনি বিভিন্ন ডেঙ্গু রোগীকে রক্তদাতা খুঁজে দিয়েছেন এই ঈদের ছুটিতে।সাহায্য করে যাচ্ছেন ডেঙ্গু রোগীদের। ঈদের ছুটিতে রক্তদাতা পাওয়া যাচ্ছে না, তারপরও অতিরিক্ত পরিশ্রম করে রক্তদাতা খুঁজে নিয়েছেন, তাও এই অসুস্থ শরীর নিয়ে।

ডেঙ্গু রোগীর রক্তের প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজে পাননি স্বেচ্ছাসেবক ‘পায়েল’। অবশেষে অনেক অনুরোধ করে কুমিল্লা থেকে এখন রক্তদাতা ম্যানেজ করেছেন। কুমিল্লা থেকে ঢাকা এসে রক্তদাতা রক্তদান করেছেন।

দেশের মানুষের জন্য এমন আত্মত্যাগ সবাই করতে পারেন না, যা রক্তদানের ভলান্টিয়াররা করে দেখিয়েছেন। দেশের প্রতিটি জেলার স্বেচ্ছাসেবকরা ডেঙ্গু রোগীকে রক্তদাতা খুঁজে দিয়ে সাহায্য করেছেন। স্বেচ্ছাসেবকরা এভাবে এগিয়ে না এলে হয়তো ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেত।

হ্যাঁ, এভাবে রক্তদাতা খুঁজে খুজেই এবারের ঈদ কেটেছে রক্তদানের স্বেচ্ছাসেবকদের। তাদের এই অবদান হয়তো সরকারিভাবে প্রশংসা পাবে না, হয়তো রোগীরাও স্বেচ্ছাসেবকদের এই অবদান ভুলে যাবে। কিন্তু দেশে ডেঙ্গুর এই দুর্যোগের সময় নিজের সর্বস্ব ত্যাগ করে যে স্বেচ্ছাসেবকরা ডেঙ্গু রোগীদের পাশে ছিলেন সবসময়, তাদের অবদান ভুলে যাবেন না – এই অনুরোধ রইলো সবার কাছে।

এই দুর্যোগের সময় সকল রক্তদাতারা নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে এসেছেন। সকল রক্তদাতাদের স্যালুট।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

Development by: webnewsdesign.com