
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গড় হাজির পাওয়ার পর দুই সহকারী কমিশনারসহ ২০ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাকিয়া সরওয়ার লিমা।
তিনি জানান, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের ১০ জন, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের ৬ জন এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের ২ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এই নোটিশে তিনি নিজে স্বাক্ষর করেন।
এ ঘটনায় শোকজ হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া, ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমা, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), অফিস সহায়ক ইউনূস আলী, অফিস সহায়ক মোক্তার হোসেন, গাড়িচালক নাদিম হায়দার, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ, চেইনম্যান রফিকুল ইসলাম, ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাত।
নোটিশে বলা হয়েছে, সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ভূমি অফিসে পরিদর্শনে গেলে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিত পাননি। তাদের উপস্থিত পাওয়া না গেলেও ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় আগের দিন স্বাক্ষর করে গেছেন। যা গর্হিত অপরাধ এবং সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮ এর খ ধারার অপরাধের শামিল।
যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত অফিসে অনুপস্থিত থাকা কিংবা বিলম্বে উপস্থিত হওয়া সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা ২০১৯-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে এর কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তার ও ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া স্বাক্ষর করেছেন।
এর আগে, সকালে নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুর এলাকায় অবস্থিত সদর উপজেলা ভূমি অফিসে যান ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। এই এলাকায় একই চত্বরে পাশাপাশি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের এবং ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয় রয়েছে।
সকাল ৯টার কয়েক মিনিট আগে কার্যালয়ে ঢোকেন তিনি। কিন্তু ৯টার পরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আসেননি। তখন তিনি হাজিরা খাতা পর্যবেক্ষণ করেন। অন্তত ২০ মিনিট পর খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া সেখানে উপস্থিত হন। তারও কিছুক্ষণ পর আসেন ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমা।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত না থাকলেও অনেকের হাজিরা দেওয়া হয়ে গেছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি বলেন, ‘দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণকে সেবা দেওয়া। এটি কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়। তাই নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে হবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শুধু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। জনগণ যাতে সরকারি সেবা নিতে এসে কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল হতে হবে।’
অফিসে উপস্থিতি ও হাজিরা ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এসব ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলেই সরকারি সেবার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব নয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ববোধ ও মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি দপ্তরে জনগণ যেন হয়রানি ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সেবা পান, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে জনগণের সেবা দেওয়াই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রধান দায়িত্ব।’
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, ‘ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিত থাকা এবং তাদের হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর থাকার বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্টা কারণ জানার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘সবাই হয়তো দোষ করেননি। কেউ কেউ আগাম স্বাক্ষর করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের পর পরিষ্কারভাবে বলা যাবে।’
