রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ | ৯ কার্তিক, ১৪৩৩

Advertise with us
আপডেট
মোটর সাইকেল দুর্ঘটনা: হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে প্রাণ গেল দুই তরুণের ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি রতন সকল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রভাষক ফাহাদ চৌধুরী জুড়ীতে ছাত্রলীগের মিছিলের পর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কিশোর রায় গ্রেপ্তার চা বাগান থেকে হার্ভার্ডে, ২ কোটি টাকার স্কলারশিপ পেলেন শান্তা যাদব রাশিয়ায় সহস্রাধিক ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনের হামলা ‘ইশরাক পিস্তল উঁচিয়ে যে দৃশ্যের অবতারণা করেছেন, তা ত্রাসের রাজত্ব’ সেই বিকৃত ভিডিও নিয়ে যা বললেন পরীমনি ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের সংবাদ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘যত দ্রুত সম্ভব’ ৬৬৬ কোটি টাকার বকেয়া কর আদায়ের নির্দেশ
Advertise with us

দুর্ঘটনা আর আশ্বাসে রেলওয়ে সিলেটের বছর পার

নিউজ ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯   |   প্রিন্ট   |   ৮৩৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

দুর্ঘটনা আর আশ্বাসে রেলওয়ে সিলেটের বছর পার

দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতি, জনবল সঙ্কট, যান্ত্রিক ত্রুটি, রেলওয়ের সংস্কার না হওয়াসহ নানা কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে আরামের ও সাচ্ছন্দের ট্রেন ভ্রমণ। মেরামতের অভাবে রেলওয়েতে ঝুঁকির মাত্রা দিনদিন ভয়াবহ হচ্ছে। বাড়ছে ট্রেন দুর্ঘটনা। হতাহত হচ্ছে মানুষ। এ অবস্থায় ট্রেন ভ্রমণে যেন দুর্ভোগের শেষ নেই।

একই অবস্থা সিলেট বিভাগেও। যার ধারাবাহিকতায় শুধু ২০১৯ সালে সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ছোটবড় ১৮টি ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। বিগত সময়ে সিলেটের মানুষ এতোটা ঝুঁকির মধ্যে না থাকলেও শেষ হতে যাওয়া পুরো বছরে ছোট-বড় অসংখ্য দুর্ঘটনায় যাত্রা পথের এক মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে রেলওয়ের সিলেট অঞ্চল।

এসব দুর্ঘটনায় বেশিরভাগই বগি লাইনচ্যুত হয়ে কয়েকঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও বছরের সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের ২৪ জুন কুলাউড়ার বরমচাল এলাকায়। এদিন বরমচাল রেলক্রসিং এলাকায় ঢাকাগামী উপবনের বগি ছিটকে পড়ে। এতে ৭ জন নিহত হন। ঘটনার পর তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। এর প্রেক্ষিতে ২৬ জুন দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরাপদ ও সহজলভ্য করতে রেলের আধুনিকায়ন ও সংস্কারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছিল। এছাড়াও রেললাইনের আধুনিকায়ন, সংস্কার ও সংরক্ষণে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে এ রিটে। এরপরও সমাধান হয়নি কোন কিছুর। উল্টো বছরের শেষ দিকে আরও কয়েকবার ঘটেছে ছোটবড় কয়েকটি দুর্ঘটনা।

এরমধ্যে চলতি বছরের ২০ জুলাই মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ঢাকাগামী আন্তঃনগর কালনী এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে সিলেটের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রেল যোগাযোগ। এর আগে চলতি বছরের ১৮ জুলাই কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল স্টেশনের অদূরে তেলবাহী ট্রেনের একটি খালি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতেও প্রায় ২ ঘণ্টা বন্ধ থাকে সারা দেশের সাথে সিলেটের রেল যোগাযোগ। এই দুই দিনের মধ্যে আবার ১৯ জুলাই কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের ক্রসিং পয়েন্টে ঢাকাগামী জয়ন্তিকা ট্রেনের একটি বগির চাকা লাইনচ্যুত হয়। এর প্রায় দেড়ঘণ্টা পর লাইনচ্যুত বগি রেখেই ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

আর চলতি বছরের ১৭ আগস্ট ফেঞ্চুগঞ্জের মাইজগাঁও রেলস্টেশনে ঢাকাগামী আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনটির শেষাংশের ১টি বগি লাইনচ্যুত হয়। পরে এই বগিটি রেখেই ট্রেনটি ঢাকা পৌঁছায়। এরপর সেপ্টেম্বরে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে একই ট্রেন দুই বার লাইনচ্যুত হয়। ৪ ও ১৭ সেপ্টেম্বর ফেঞ্চুগঞ্জে লাইনচ্যুত হয় সিলেটগামী জালালাবাদ ট্রেনের একটি বগি। এতেও বড় ধরণের বিড়ম্বনায় পড়ে সিলেটের মানুষ।

দুর্ঘটনার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল অক্টোবর মাসেও। মাসের ৪ তারিখ আখাউড়ায় জালালাবাদ এক্সপ্রেসের মালবাহী বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে দুই ঘণ্টা সিলেটের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। এরপর নভেম্বর মাস বিরতি দিয়ে ২৯ ডিসেম্বর আবারও মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বরমচাল এলাকায় একটি মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে প্রায় ৭ ঘণ্টা সিলেটের সাথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ থাকে।

এখানেই শেষ নয়, ২০১৯ সালের শুরুর মাস জানুয়ারি বাদ গেলেও ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় ট্রেন দুর্ঘটনা। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির ২৩ তারিখ শ্রীমঙ্গলে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেসের ১১টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এরপরে ২৮ মার্চ কুলাউড়ার বরমচাল রেলস্টেশনে পৌঁছামাত্র তেলবাহী ৯৫২ ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। দুর্ঘটনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এপ্রিল মাসেও। চলতি বছরের ৬ এপ্রিল ফেঞ্চুগঞ্জের মাইজগাঁওয়ে মালবাহী একটি ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে কয়েকঘণ্টার জন্য সিলেটের সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে।

এছাড়াও চলতি বছরের ২ জুন হবিগঞ্জের রশিদপুর এলাকায় কুশিয়ারা এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। এতে প্রায় ছয় ঘন্টা বন্ধ থাকে সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন চলাচল। আর মে মাসের ১৬ তারিখ ফেঞ্চুগঞ্জের মল্লিকপুর এলাকায় লোকাল ট্রেন জালালাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। সব মিলিয়ে অসংখ্য ছোট-বড় দুর্ঘটনায় বছরজুড়ে আলোচনায় ছিলো রেলওয়ে সিলেট। সেই সাথে সিলেটের রেলওয়ে রুটগুলো সংস্কার ও নিরাপদ করে তোলার দাবিও ওঠে জোরালোভাবে।

বর্তমানে ট্রেনের অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধাও বাড়ছে। ট্রেনের আধুনিকায়ন এখন দৃশ্যমান। কিন্তু এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা। সিলেটের বিভিন্ন রুটে ধারাবাহিক ট্রেন দুর্ঘটনার পর স্থলপথে সিলেট-ঢাকা রুটে যাতায়াতকারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। যদি এখনই ট্রেন ভ্রমণ নিরাপদ না করা যায় তাহলে সাধারণ যাত্রীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হবে। এতে দীর্ঘায়িত হবে লাশের সারি। তবে লাশের সারি আর দেখতে চায় না দেশের মানুষজন। এজন্য রেল নিরাপত্তায় নতুন করে ভাবতে হবে।

সৌজন্যে: সিলেট ভয়েস

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 ১২
৩৪৫৭৮৯
১০১১১১৩৪১৫১৬
১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৯৩০
৩১ 

ফলো করুন 24todaynews.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
প্রভাষক আফাজুর রহমান চৌধুরী
অফিস