হায় বাঙলা,অভাগা বাঙালি

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০ | ১০:০২ অপরাহ্ণ | 241

হায় বাঙলা,অভাগা বাঙালি

“সাত কোটি বাঙালিরে হে মুগ্ধ জননী রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি” আজ কবিগুরুর এই উক্তিটি বাঙালি অনুধাবন করছে, শুধু যে বাঙালিই অনুধাবন করছে এমনটি নয় অনুধাবন করছে গোটা বিশ্ব। “বাংলাদেশ” অনেক শোষণ নির্যাতন দমন পীড়নের পর আশার ভরসার ভালোবাসার একটি নাম। বৃটিশ শোষণ তারপর পাকিস্তানী দানবীয় শাসনের নামে শোষণ বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামী মানুষের রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে মুক্ত হয় বাঙালি। স্বাধীনতার পরও বিভিন্ন চক্র দেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রয়াস বহুদিনের। স্বাধীনতার ৫০ বছরের কাছাকাছি আমরা পালন করছি মুজিব শতবর্ষ তারপরও কোথায় যেন আমাদের কমতি। বাংলাদেশে রেমিট্যান্স যোদ্ধা নামে পরিচিত প্রবাসীরা। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক যোদ্ধা শিল্পের শ্রমিক। অথচ এই দুই শ্রেণির মানুষই আজ বিশ্বব্যাপি বিস্তার হওয়া বৈশ্বিক মহামারি করোনা ছড়াতে ব্যস্ত। ২০১৯-২০ করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারীটির প্রথম ঘটনা বাংলাদেশে ৭ জানুয়ারী ২০২০ সালে হয়েছিল। এজন্য সরকার অঘোষিত লক ডাউনও ঘোষণা করেন। বন্ধ করে দেয়া হয় স্কুল কলেজসহ সকল প্রতিষ্ঠান। তবে কি স্বার্থক হয়েছে সরকারের এই পরিকল্পনা? মোটেও নয় বরং আমরা এটিকে উৎসবের ছুটি হিসেবে চলে গেছি প্রকৃতির রূপ দেখতে। এখন অনেকেই বলবেন হয়তো কিভাবে প্রবাসী ও শ্রমিকরা কিভাবে ছড়ালো তারা কি দোষ করেছে? অনেকে হয়তো সরকারের দিকে আঙ্গুল তুলে বলবেন কোয়ারেইনন্টাইনের জন্য নির্ধারিত স্থানটি বসবাসের অযোগ্য ছিল। কোনোভাবেই অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে কোয়ারেইনন্টাইনের জন্য নির্ধারিত স্থানটি বাসযোগ্য ছিল না। তবে আমি প্রবাসীদের বলতে চাই তারা এতোবছর কষ্ট করে দেশের স্বার্থে ১৪ টি দিন না হয় খেয়ে না খেয়েই থাকতো। কেন চীন থেকে হবু ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারসরা কি থাকেনি এমন স্থানে। আর শ্রমিকদের ছুটি দেয়া হয়েছে নিজ গৃহে অবস্থানের জন্য তারা কেন গোটা দেশটাকে হুমকির মুখে ফেলতে কর্মক্ষেত্র ছাড়লো? এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা তাদের খেল দেখালো,বৈশ্বিক এই মহামারিতে যখন বিশ্বের সকল দেশ পণ্যের মূল্য কমিয়ে দিল তখনই আমার দেশের কিছু অসৎ ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে পণ্যের যোগান,দাম বাড়াচ্ছে। ডাক্তার সেবা বাদ দিয়ে পালাচ্ছে। করোনা ভাইরাস টি জ্যামিতিক হারে বাড়ে। এমন অসহযোগীতাপূর্ণ অবস্থা হলে লাশ পড়ে থাকবে মাঠে ঘাটে। জনপ্রতিনিধিরা সরকারি ত্রাণ দিচ্ছে ভোটার কার্ড দেখে। মানুষ নয় তাদের হিসেব ভোটার। বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৮। এই হার বাড়বে জ্যাতিমিক ভাবে। ধনতন্ত্র অর্থ ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ মুনাফা লাভে খোলে দেয়া হচ্ছে শিল্প কারখানা গুলো। বিজিএমইএ মালিকদের জানাচ্ছে অনুরোধ। সরকারি যে ত্রাণ আসছে তা কি সঠিকভাবে বণ্টন সম্ভব হচ্ছে? এজন্য নেই কোনো মনিটরিং ব্যবস্থা। এই সুযোগে কতিপয় জনপ্রতিনিধি আখের গোছাতে ব্যস্ত। আমরা জানিনা কাল শ্বাস নিতে পারবো কিনা,জানিনা কালকের পৃথীবিটা কেমন হবে? বাঁচবো কি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, তারপরও আমাদের টাকা চাই এযেন মৃত্যুপুরীর দিকে যাচ্ছে প্রিয় স্বদেশ। অর্থপ্রাপ্তি একটি নেশা। এ নেশা থেকে আমরা যেদিন বের হতে পারবো সেদিনই আমাদের সুদিন আসন্ন। সরকারেরও ভুল রয়েছে সরকার প্রথম থেকেই যদি বিমানবন্দরে কড়া নজরদারি করতো তাহলে হয়তো এমনটি হতো না। নয়তো বাধ্যতামূলক কোয়ারেইনন্টাইন করলেও এমন হবার কথা ছিল না। তাই এতো বড় দূর্যোগ মোকাবেলায় সবাইকে দিতে হবে সর্বোচ্চ ছাড়। সরকারকে মানবিক নয় হতে হবে কঠোর। আমরা বাঙালি নয় মানুষ হিসেবে পরিচিতি পেতে চাই বিশ্ববাসীর কাছে। ( এখানে পেশার সকল লোককে বুঝানো হয়নি কতিপয় অসতর্ক, অসাধু ও দায়িত্বজ্ঞানহীনদের বুঝানো হয়েছে)

লেখক:



হাফিজুর রহমান

কলামিস্ট ও নির্বাহী সম্পাদক, সাপ্তাহিক জনতার নিঃশ্বাস পত্রিকা।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

Development by: webnewsdesign.com