তাজিয়া মিছিলে হাজারো মানুষ

শনিবার, ২৯ জুলাই ২০২৩ | ৩:৪৯ অপরাহ্ণ | 91

তাজিয়া মিছিলে হাজারো মানুষ

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীর অনুষ্ঠিত হয়েছে তাজিয়া মিছিল। হাতে লাল-কালো আর সবুজ অক্ষর-খচিত নিশান, মুখে মার্সিয়া (শোকের স্লোগান), গায়ে কালো পাঞ্জাবি, কালো ব্যাজ ধারণ ও খালি পায়ে মিছিলে অংশ নেন শিয়া মুসলমানরা। মিছিল থেকে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতমে শোকের আবহ ছড়িয়ে পড়ে রাজপথে।

ঢাকাসহ এর আশপাশ থেকে অনেকে মিছিলে অংশ নেন। আজ শনিবার সকালে ১০ টায় রাজধানীর হোসনি দালান থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি। হোসেনি দালান ইমামবাড়া, বড় কাটারা ইমামবাড়া ও এর আশেপাশের শিয়া সম্প্রদায়ের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রবেশ পথসহ বিভিন্ন স্থানে কাজ করেছেন। নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন সোয়াট সদস্যরাও। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে হোসেনি দালানে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি নিয়েছেন আয়োজকরা। এর আগে মিছিলের মহড়া দিয়েছেন শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন। সকাল ১০টায় হোসেনি দালান থেকে মিছিল বের হয়েছে। মিছিলটি রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করবে।

এছাড়া মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বকশিবাজার, লালবাগ, ফরাশগঞ্জ, পল্টন, মগবাজার থেকেও তাজিয়া মিছিল বের হয়। এর মধ্যে হোসনি দালান থেকে সবচেয়ে বড় মিছিল বের হয়। এ মিছিলে হাজারো নারী-পুরুষ ও শিশুর পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। ইমাম হাসান রক্ত দিয়ে যে শান্তির বাণী প্রতিষ্ঠা করে গেছেন; সে বাণী সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়াই তাদের মূল উদ্দেশ্য বলে জানান মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা।

এবার তাজিয়া মিছিল নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আশুরা উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এ তাজিয়া মিছিলে পাইক দলের ব্যক্তিরা দা, ছোরা, কাচি, বর্শা, বল্লভ, তরবারি ইত্যাদি নিয়ে অংশগ্রহণ করে। ফলে ক্ষেত্রবিশেষে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যা ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও নগরবাসীর মনে আতঙ্ক সৃষ্টিসহ জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। তাছাড়া মহররম মাসে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আতশবাজি ও পটকা ফাটানো হয়; যা ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তাই ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তাজিয়া মিছিলে দা, ছোরা, কাচি, বর্শা, বল্লভ, তরবারি ইত্যাদি বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফাটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে পবিত্র আশুরার তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় বোমা হামলা চালানো জেএমবি। এই হামলায় দু’জন নিহত ও শতাধিক আহত হন। পরবর্তীতে তাজিয়া মিছিলে গ্রেনেড হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী শাহাদাৎ ওরফে আলবানি ওরফে মাহফুজ ওরফে হোজ্জা ২০১৫ সালের ২৫ নভেম্বর রাজধানীর গাবতলীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। পরে অপর দুই জেএমবি কমান্ডার আবদুল বাকি ওরফে আলাউদ্দিন ওরফে নোমান ও সাঈদ ওরফে হিরণ ওরফে কামাল পরের বছর ২০১৬ সালের ১৩ জানুয়ারি রাজধানীর হাজারীবাগে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯  
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

Development by: webnewsdesign.com