আপডেট

x


করোনায় মধ্যবিত্তকে নামাচ্ছে নিম্নবিত্তের কাতারে!

সোমবার, ০৪ মে ২০২০ | ৯:৩৩ অপরাহ্ণ | 377

করোনায় মধ্যবিত্তকে নামাচ্ছে নিম্নবিত্তের কাতারে!

সারা দুনিয়াকে স্তব্ধ করে দিয়েছে মরণঘাতক করোনা নামক ভাইরাস। বাংলাদেশেও হানা দিয়েছে এই ভাইরাস। ছাড়ছে না কাউকে।পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার হার্ডলাইনে। এমন বাস্তবতায় ঘরবন্দী সর্বস্তরের মানুষ। সরকার ঘোষিত খাদ্য পৌছালেও দলীয় রীতিতে চলছে ত্রাণ বিতারণ কার্যক্রম। এই অবস্থায় বসে নেই সুযোগ সন্ধানীরাও। দলীয় পরিচয়ে তৎপর তারা। নিন্ম আয়ের মানুষ ছুটছে ত্রাণের খোঁজে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারে চলছে চাঁপা কান্না। কর্মহীন হয়ে মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারে নেই খাদ্যের যোগান। যা ছিল তাও শেষের পথে। মধ্যবিত্ত পরিবার সম্পর্কে সবার কম বেশি ধারনা আছে। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো কারো নিকট সাহায্য চাইতে পারেনা বা কাউকে সাহায্য করার ক্ষমতাও নেই তাদের। তারা নিজেদের উপার্জনে নিজেরা কষ্ট করেই জীবন যাপন করেন।চলমান করোনা ভাইরাসের কারনে লকডাউনের মধ্যে মহাসংকটে পড়েছে মধ্যবিত্ত হাজার হাজার গৃহবন্দি পরিবার গুলো ।

ব্যবসায়ি, প্রবাসি র্নিভর ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরতদের অনেকে বেতন পাচ্ছেন না। সঞ্চিত অর্থ শেষের পথে,আছেন চাকুরি হারানোর শঙ্কায়। ঘরে খাবার নেই,চক্ষুলজ্জায় হাতও পাততে পারছেন না।



এরি মধ্যে আবার নতুন চাপ সৃষ্টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ইতোমধ্যে বেতন ফি প্রদানের জন্য নোটিশ টানিয়েছে। অভিভাবকদের মেসেজ দিয়ে বেতন ফি প্রদানের তাগিদ দিচ্ছে। করোনা প্রাদুর্ভাবে দীর্ঘ এক মাস থেকে মানুষ যখন গৃহবন্ধি, কোন কাজ নেই। তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বেতেরে তাগিদ দেওয়া কতটুকু মানবিক।

অন্যদিকে বাসা ভাড়া জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মধ্যবিত্তদের। সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে মধ্যবিত্তরা। সরকারের কোন প্রণোদনার মধ্যেও নেই তারা।
ফলে অর্থনীতিবিদরা ও সচেতন মহল মনে করেন এইসব পরিবারের অনেকেই এখন নিম্নবিত্তের স্তরে নেমে আসছেন।

জানাযায়,বাংলাদেশে ১৬কোটি মানুষের চার কোটি পরিবার আছে। এর মধ্যে নিম্নবিত্ত ২০ভাগ আর উচ্চবিত্ত ২০ভাগ। মাঝের যে ৬০ভাগ এরা নিম্ন-মধ্য ও উচ্চ মধ্যবিত্ত। এই সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি পরিবার। এর মধ্যে সরকারি চাকুরিজীবী,মাল্টিন্যাশনাল ও বড় কোম্পানিতে কাজ করা কিছু মানুষ বাদে অন্যরা সবাই সংকটে আছেন। তবে সরকার এসএমই ঋণ দিয়ে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্তদের বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। তবে এই সংখ্যাও খুব বেশি না। বিপুল জনগোষ্ঠী এখনও সহায়তার বাইরে।

আরো জানাযায়,১১টি উপজেলায় ২৪লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। তাদের মধ্যে প্রায় ৫লক্ষাধিক মধ্যবিত্ত পরিবার। কৃষক পরিবার রয়েছে ৩লক্ষাধিক আর বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্টানে চাকুরীজীবি রয়েছে বড় একটা অংশ। অনেকেরই বেতন হয়নি,অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ফলে তারা বেতন তো পাননি,উল্টো চাকুরি ঝুঁকিতে আছেন। এই মানুষগুলো সরকারি কোন কর্মসূচির মধ্যেও নেই।

প্রবাসি র্নিভর পরিবার গুলো ও আছে মহা বিপদে র্বতমানে বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই চলছে লকডাউন তাই প্রবাসিরাও দেশে কোন টাকা পাঠাতে পারছেননা তাই প্রবাসি র্নিভর পরিবার গুলো পরেছেন বিপাকে।

জেলার শহরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্যানিটারি সামগ্রী বিক্রি ক্রেতা বলেন,তার দোকানে দুইজন কর্মচারি। দোকান বন্ধের আগে হাতে যে টাকা ছিল তা দিয়ে কর্মচারিদের মার্চ মাসের বেতন দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। সামান্য টাকা রেখেছিল নিজের পরিবারের খরচ মেটাতে। যা এরিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। রোজগারের জন্য দোকান খুলতে পারছেন না। এই অবস্থা আর কিছুদিন থাকলে আমাকে পথেই নামতে হবে।

আরেকজন ব্যবসায়ি বলেন,দোকান বন্ধ হয়েছে এক মাসরে ও উপরে। কোন রকমে টেনেটোনে চলছি। দোকান ও কর্মচারীর জন্য প্রতি মাসেই টাকা এখন নিজের পকেট থেকে যাবে। এভাবে কত দিন চলবে জানি না। কয়েক মাস চললে আমি ত পথে বসে যাব।

সচেতন মহল বলছেন,মধ্যবিত্তের অনেকেই চক্ষুলজ্জায় মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে পারছেন না। নিজেদের পরিস্থিতি বাইরের কাউকে তারা জানাতেও পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে কিভাবে চলছেন দেশের কয়েক কোটি মধ্যবিত্ত ? মধ্যবিত্তের কিছু সঞ্চয় থাকে। গেল এক মাসের লকডাউনে তারা সেই সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে। এভাবে আরেকমাস চললে তাদের সেই সঞ্চয়ও শেষ হয়ে যাবে। তখন কি পরিস্থিতি দাঁড়াবে ? বিপুল সংখ্যক মধ্যবিত্ত এই পরিস্থিতিতে নিম্নবিত্তে পরিণত হবেন। সরকার চাইলেও মধ্যবিত্তকে কিছু করতে পারে না। আসলেই বাংলাদেশে মধ্যবিত্তরা ভয়াবহ সংকটে আছেন।

মধ্যবিত্তরা লোকলজ্জায় মুখ খুলে বলতে পারে না। তাই র্বতমানে করোনায় মধ্যবিত্তকে নামাচ্ছে নিম্নবিত্তের কাতারে।এর শেষ কোথায় কেউ বলতে পারে না।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

Development by: webnewsdesign.com