অবৈধ অটোরিকশার শহর, বাড়ছে যানজট

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২০ | ১০:১৪ অপরাহ্ণ | 65

অবৈধ অটোরিকশার শহর, বাড়ছে যানজট
ফাইল ছবি

পর্যটনপ্রিয় শ্রীমঙ্গল যেন ব্যাটারিচালিত অবৈধ অটোরিকশা আর টমটমের শহর। রাস্তায় চলাচলের জন্য পৌরসভার কোন নিবন্ধন না থাকলেও ট্রাফিক পুলিশের সামনেই শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হাজারো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। এসব রিকশার বেপরোয়া চলাচলে শহরে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। ঘটছে ছোট-বড় অসংখ্য দুর্ঘটনা। পুলিশ প্রশাসনকে হাত করেই এসব অবৈধ যান শহরে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে শহর ঘুরে দেখা যায়, পৌর শহরে যত দূর চোখ যায়, শহরের যানবাহনের বেশীরভাগই কেবল ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, টমটম। সড়কের এপাশ-ওপাশ দুই দিকেই এসব যানবাহন একটার পেছনে আরেকটা লেগে আছে। সড়ক জুড়েই টমটমের অবস্থান। শহরের যাত্রীদের তুলনায় যেন এসব অবৈধ যানের সংখ্যাই বেশি। রাস্তার যেখানে সেখানে এসব অবৈধ যানবাহন পার্কিং করে রাখার কারণে ও রাস্তার যেখানে-সেখানে হঠাৎ করে থামার কারণে শ্রীমঙ্গল এখন যানজটের শহর।



নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এসব অবৈধ যানের চালকরা বলেন, প্রতি মাসে শ্রীমঙ্গল অটোরিকশা মালিক সমিতি থেকে এসব অবৈধ যানের স্টিকার কিনে আনেন তারা। ব্যাটারি চালিত রিকশার জন্য ২৫০ টাকা আর টমটমের জন্য দিতে হয় ৩০০ টাকা। প্রতি মাসেই সেই স্টিকার বদলও করতে হয়। এক মাস স্টিকার না আনলে তারা রিকশার গদি (সিট) জোর করে খুলে নেয়। রিকশার গদি খোলার জন্য রয়েছে আলাদা একটি কর্মীবাহিনী। এই বাহিনীর কাজ হলো সারাদিন শহরে ঘুরে স্টিকারবিহীন রিকশার গদি খুলে নেয়া।

তারা বলেন, সমিতির মালিক সমিতির লোকেরা তাদের কাছ থেকে এ টাকা নিয়ে নাকি স্থানীয় কয়েক নেতা ও থানার পুলিশকে দিতে হয়। বাকী টাকা তারা নিজেরা বেতন হিসেবে নিয়ে নেয়। তারা আমাদের বলে, যদি সবাই চাঁদা না দেয় তাহলে পুলিশ শহরে অটোরিকশা চালাতে দিবে না।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রীমঙ্গল অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি জাহের মিয়া বলেন, ‘রিকশা চালকদের থেকে এ ধরনের কোন চাঁদা নেওয়া হয় না। যে চালকরা এসব বলে সেটা মিথ্যা বলে। আমরা এধরনের চাঁদাবাজি করি না। এরকম টাকা উঠাই না।’

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছালেক বৃহস্পতিবার বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও টমটমের বিরুদ্ধে আমরা প্রায়ই অভিযান চালাচ্ছি। আমরা কঠোর অবস্থানে যাচ্ছি। আগামী ১৯ তারিখ থেকে শ্রীমঙ্গল শহরে ব্যাটারিচালিত এসব অটোরিকশা ও টমটম চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, অবৈধ যানের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সেটা চলমান থাকবে। আমাদের তরফ থেকে কোন গাফিলতি আছে কি না সেটা তদন্ত করে দেখবো। যদি আমাদের কেউ এর সাথে জড়িত থাকে তাহলে ছাড় পাবে না।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

Development by: webnewsdesign.com